আন্দোলন, অবরোধ কিংবা আচমকা তৈরি হওয়া হিংসাত্মক গোলমালের নামে যারা এতদিন প্রকাশ্যে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর করাকে একপ্রকার অভ্যাসে পরিণত বানিয়েছিলেন— তাঁদের জন্য এবার দিন ঘনিয়ে এসেছে চরম সতর্কতার। কারণ, প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় লাগাম টানতে এমন এক নজিরবিহীন আইনি ফাঁস তৈরি হলো, যেখানে ভুল পদক্ষেপে চোখের পলকে চলে যেতে পারে অপরাধীর সমস্ত ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি!
সম্প্রতি নবান্নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য প্রশাসনের প্রধান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন— আজ থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গেল সম্পত্তি রক্ষা ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ সংক্রান্ত সেই অতি-কঠোর সংশোধিত আইন। নতুন এই আইনের আওতায়, বিক্ষোভ, দাঙ্গা বা ভাঙচুরের নামে সাধারণ মানুষের কিংবা সরকারি পরিকাঠামো নষ্ট করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হলে, অভিযুক্তকে কেবল গরাদের পেছনেই পাঠানো হবে না, বরং মূল ক্ষয়ক্ষতির ওপর অতিরিক্ত সুদে-আসলে পুরো তিন গুণ অর্থ সরাসরি ক্ষতিপূরণ হিসেবে উদ্ধার করবে প্রশাসন!
আর যদি অভিযুক্ত বা অপরাধী এই জরিমানা মেটাতে অস্বীকার করে? তবে আর কোনো দ্বিতীয় সুযোগ থাকবে না! সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপরাধীর যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি— অর্থাৎ জমি, বাড়ি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার একচ্ছত্র এক্তিয়ার থাকবে বিশেষ ‘ক্লেমস কমিশন’-এর হাতে। এমনকি এই পুরো অপরাধ চক্রে যারা পেছনের সলতে পাকাবে, প্রত্যক্ষ উস্কানি দেবে, আশ্রয়ের সুযোগ করে দেবে বা অর্থের যোগান দেবে— তাদেরকেও মূল অপরাধীর সমতুল্য হিসেবে চিহ্নিত করে সমান আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে।
শুধু সম্পত্তি সুরক্ষাই নয়, অসামাজিক উপাদান ও দুষ্কৃতীদের আগাম বাগে আনতে জারি হয়েছে চরম প্রশাসনিক ক্ষমতা। পুলিশ সুপারের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার যেকোনো চিহ্নিত গুন্ডা বা দুষ্কৃতীকে টানা ১ বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক ধারায় আটকে রাখতে পারবে। পরবর্তীতে এই আটকাদেশ বজায় রাখা হবে কি না, তা সরাসরি খতিয়ে দেখবে বিচারপতি-নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ উপদেষ্টা বোর্ড। আইনের এই অল-আউট প্রয়োগ আগামী দিনে রাজ্যে ভাঙচুর ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কতখানি কমাতে পারে— এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিফহাল মহলের।