তৃনমূলের অরাজকতার দিন শেষ এবার কলেজ গুলিতেও হবে নির্বাচন!

রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবার এক চরম ও যুগান্তকারী ঘোষণা সামনে এল! বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে যেখানে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একপ্রকার থমকে ছিল, সেই খরা কাটিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটের হাওয়া ফেরাতে নজিরবিহীন অবস্থান নিলো বর্তমান রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ও অন্যান্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে সংঘর্ষ এবং যাদবপুরের বুকে নন্দলাল বসুর ঐতিহাসিক নামফলক অবমাননার মতো ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজনীতি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্র ভোটের দাবি জানিয়েছিলেন অনেকেই। অবশেষে সেই বিতর্কের আবহেই শুক্রবার যাদবপুরের মেগা কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি ক্ষোভের নিরসন ঘটালেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী।

অত্যন্ত স্পষ্ট ও আক্রমণাত্মক মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন— খুব শিগগিরই রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছভাবে ছাত্র সংসদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সাফ দাবি করেন যে— এই ভোটে জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি অভূতপূর্ব সাফল্য পাবে এবং রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উড়বে বিজয়ের ‘গেরুয়া আবির’! বিরোধীদের এই নির্বাচনে কোনো সুবিধাই করার সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং ছাত্র রাজনীতির পথ পেরিয়েই আজকের এই শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পৌঁছেছেন, তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি সুস্থ ছাত্র সংসদের গুরুত্ব তিনি ভালোভাবে অনুধাবন করছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল। যে সমস্ত ক্যাম্পাসে এতদিন জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রভাব কিছুটা সীমিত ছিল, সেখানে এই আগামী নির্বাচন এবিভিপির জন্য এক বিরাট সুযোগ তৈরি করে দেবে। ফলে সার্বিকভাবে বলা যায়— দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্তব্ধতা কাটিয়ে বাংলার শিক্ষা চত্বর এবার মুখোমুখি হতে চলেছে এক নতুন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *