‘বন্দে মাতরম’ নাকি রবীন্দ্রনাথের লেখা? দিলীপ ঘোষের মূর্খতায় ফের থ হয়ে হাসছে গোটা বাংলা!

‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন রবি ঠাকুর! দিলীপের নতুন ইতিহাস চর্চায় ধিক্কার ও হাসির রোল রাজ্যজুড়ে
নিজের অজ্ঞতা ও হাস্যকর মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ফের একবার প্রমান করলেন যে, ইতিহাস বা সাধারণ জ্ঞানের সাথে তাঁর দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। গরুর দুধে সোনা খোঁজা কিংবা দুর্গা পূজার ঐতিহ্য নিয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন তোলার পর এবার বাংলা সাহিত্য ও ভারতের জাতীয় সংবাদের অন্যতম মূল স্তম্ভকে ধূলিসাৎ করে দিলেন তিনি। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী রচনা ‘বন্দে মাতরম’ নাকি লিখেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! রাজ্য বিজেপির এই মন্ত্রীর মুখে এমন আজব ও ভিত্তিহীন দাবি শুনে হাসির রোল উঠেছে বঙ্গসমাজ ও রাজনৈতিক মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে, যখন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে প্রথাগতভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ‘জ্ঞানের মণিমুক্তো’ ছড়াতে শুরু করেন দিলীপ। রাখীবন্ধন উৎসবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সশব্দে দাবি করেন, “রাখি আমাদের একটি ঐতিহ্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রবি ঠাকুর সেটাকে বের করে এনে, বন্দে মাতরম গান লিখে বঙ্গভঙ্গ রোধ করেছিলেন।” সামান্য প্রাথমিক জ্ঞান থাকা যে কোনো মানুষই জানেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ গানের রচয়িতা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ এটি রচনা করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানে সুর দিয়েছিলেন এবং গেয়েছিলেন মাত্র, কিন্তু রচয়িতা হিসেবে কবিগুরুর নাম বসিয়ে দিয়ে দিলীপবাবু নিজের পড়াশোনার বহরটাই রাজ্যবাসীর সামনে প্রকাশ করে দিলেন।
যেখানে বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ নেতারা এটিকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখেন, সেখানে বিজেপির এক প্রথম সারির নেতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বয়ান বঙ্গ বিজেপির রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই নগ্ন করে দিল। বিজেপি যে কেবল প্রচারের আলোয় থাকার জন্য ইতিহাসকে বিকৃত করতে ভালোবাসে, তা দিলীপ ঘোষের মতো নেতাদের মূর্খামি থেকেই প্রতিদিন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরে হাজার হাজার মানুষের সাথে গলা মিলিয়ে পরম শ্রদ্ধায় বন্দে মাতরমের ৪টি স্তবক গাওয়ার কর্মসূচিতে সামিল হচ্ছেন, ঠিক তখনই দিলীপ ঘোষের এই ঐতিহাসিক ভুল মন্তব্য গেরুয়া শিবিরকে চরম বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছে। সচেতন নেটিজেন এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাফ বক্তব্য— রাজনীতি করার আগে ন্যূনতম ইতিহাস এবং বাংলার মনীষীদের ইতিহাসটুকু জেনে নেওয়া উচিত। বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসকে এভাবে বারবার অপমান করার জন্য দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর দল বিজেপির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

বাঙালির ইতিহাস, সাহিত্য ও মনীষীদের অবমাননা করা বিজেপি নেতাদের যেন নিয়মিত মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা পেতে বড় বড় কথা বললেও, দিনশেষে দিলীপ ঘোষের মতো নেতাদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য গোটা দেশের সামনে বাংলাকে অপমানিত করছে এবং সুশীল সমাজ তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *