পোকা-ধরা চাল বা গম কিছুতেই নেবেন না! এবার রাজ্যের রেশন গ্রাহকদের সরাসরি বার্তা খাদ্যমন্ত্রীর!

রেশন ব্যবস্থা নিয়ে দিনের পর দিন জমা হওয়া অভিযোগ আর পচা-পোকা ধরা চাল-গম পাওয়ার দিন কি তবে পুরোপুরি শেষ হতে চলেছে? আমজনতার পাতে দেওয়া খাদ্যশস্যের মান উন্নত করতে এবার আর শুধু ঘরোয়া বৈঠক নয়, সশরীরে সারপ্রাইজ ভিজিটে মাঠে নেমে পড়লেন স্বয়ং খাদ্যমন্ত্রী শ্রী অশোক কীর্তনিয়া!

শনিবার বাঁকুড়ার ১ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত ও আদিবাসী-অধ্যুষিত ধুলকুমারি গ্রামে আচমকাই পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী। সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা না করে তিনি সোজা কথা বলেন স্থানীয় অভাবী বাসিন্দাদের সাথে। রেশন দোকান থেকে ঠিক কী মানের চাল বা গম পৌঁছাচ্ছে তাঁদের ঘরে, কোনো ডিলার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে কি না— তার সবটাই সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপর কেঞ্জাকুরা পঞ্চায়েতের হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি রেশন দোকানে আচমকা ঢুকে স্বয়ং মন্ত্রী বস্তা খুলে চাল ও গমের গুণমান পরীক্ষা শুরু করতেই ডিলার মহলে শোরগোল পড়ে যায়।

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া অত্যন্ত শানিত ও কড়া বার্তা প্রদান করেন। তিনি আমজনতাকে সরাসরি পরামর্শ দিয়ে জানান— রেশন দোকান থেকে যদি সামান্যতম নিম্নমানের কিংবা পোকা-ধরা চাল বা গম দেওয়া হয়, তবে উপভোক্তারা যেন তা বুক ফুলিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানান। সরকার প্রতিটা নাগরিকের কাছে শতভাগ দায়বদ্ধ, তাই রেশনের গুণমান নিয়ে কোনো দুর্নীতি বা ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না।

রেশন ডিলারদের উদ্দেশ্যেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান— যদি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকেই খারাপ মানের খাদ্যশস্য আসে, তবে তা সাধারণ মানুষের হাতে না তুলে দিয়ে তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠাতে হবে। যদি কোনো ডিলার জেনেশুনে নিম্নমানের রেশন উপভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন, তবে তার সমস্ত দায় এবং জবাবদিহি সম্পূর্ণভাবে সেই ডিলারের ঘাড়ে পড়বে। সরকারের এই অ্যাকশন মোড দেখে বাঁকুড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন এবং সার্বিকভাবে রেশনের মান উন্নয়নে নবান্নের এই কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ওয়াকিফহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *