বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন মন্দার কালো মেঘ, তেলের চড়া দাম আর সরবরাহ সঙ্কটের চাপ—ঠিক তখনই চমক দিল ভারত!

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেই ভারতের অর্থনীতির দৌড় যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন—এই প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। অর্থাৎ, যে সময়ে গোটা বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তেলের বাড়তি দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্কটের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে, সেই সময়েই ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাল। জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপির সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য দাঁড়াতে পারে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির আকারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে এবং তার ফলেই প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ছিল, এই সময়ে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ হতে পারে। শুধু রিজার্ভ ব্যাঙ্কই নয়, অন্যান্য সমীক্ষাতেও বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছনোর পূর্বাভাস ছিল না। মানিকন্ট্রোলের উদ্যোগে ১৭ জন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে করা সমীক্ষায় ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। অন্যদিকে, রয়টার্সের ৫৮ জন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে করা সমীক্ষায় বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে বাস্তব ছবি।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরেই সমাজমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি দাবি করেছেন, কঠিন সময়ে প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে ভারতের এই বৃদ্ধির হার একটি নজির তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা, তেলের চড়া দাম এবং সরবরাহ সংক্রান্ত সঙ্কটের মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতীয় অর্থনীতিকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত নিজের বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর এখানেই শেষ নয়। প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের শেষ লাইনে ছিল রাজনৈতিক বার্তাও।

তিনি লিখেছেন, “নিন্দুকদের মুখ পুড়ল, ফের একবার ভারতের উজ্জ্বল হল।” পরিসংখ্যান বলছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি যে শক্তিশালী হয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে শুধু একটি ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যান দিয়েই গোটা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে এই বৃদ্ধির গতি কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। তেলের দাম, বৈশ্বিক চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তার মধ্যেই ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান অবশ্যই সরকারের কাছে বড় স্বস্তির খবর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *