শারদোৎসবের ঠিক মুখে থিম পুজো আর মণ্ডপে খাবারদাবার নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম জল্পনা। সম্প্রতি ইজেসিসিতে আয়োজিত এক আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমের একাংশে খবর ছড়ায় যে, পুজোয় থিম করা বা আমিষ খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তবে এই বিতর্কিত জল্পনার বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো— “সংগঠনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা চলছে, পরিষদ কোনো ফতোয়া জারি করেনি!”
ভিডিও বার্তায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মার্গদর্শক নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সাবেকি মূর্তির বদলে থিম নিষিদ্ধ করার কথা কোথাও বলা হয়নি। আসল কথা হলো, মূর্তির শালীনতা ও মাতৃত্বের ভাব যাতে বজায় থাকে। আর মণ্ডপে আমিষ খাওয়া প্রসঙ্গে মহারাজ স্পষ্ট করেন, মূল পুজোর স্থানে এবং মায়ের গর্ভগৃহের চারপাশে এঁটো-কাঁটা ফেলা অনুচিত, যাতে সেখানকার শুভ ও দিব্য পরিবেশ নষ্ট না হয়। তবে পুজো মণ্ডপের নির্দিষ্ট পরিসরের বাইরে আমিষ বা সাধারণ খাওয়াদাওয়ায় কোনো বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বেলুর মঠের মতো স্থানগুলোতেও যেমন পুজো ও খাবারের জায়গা আলাদা থাকে, ঠিক সেই শালীনতা বজায় রাখার আবেদনই তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দিক তুলে ধরেছেন। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে— পুজোর থিম পরিকল্পনা এক বছর আগেই চূড়ান্ত হয়ে যায়, তাই এই মুহূর্তে কাজ বন্ধ বা নতুন নিয়ম চাপানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি, অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী যে কোনো পুজো মণ্ডপ থেকে অন্তত ১০০ ফুট দূরে উনুন জ্বালিয়ে খাবারের স্টল বসাতে হয়। ফলে এমনিতেও মণ্ডপের মূল চত্বরে খাবার নিয়ে এসে খাওয়ার কোনো সংস্কৃতি কলকাতায় নেই।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাখা সমস্ত প্রস্তাব ও আবেদন তারা শুনেছেন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করা হবে আগামী ৭ তারিখের পর, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রশাসনিক বৈঠকে সব পুজো কমিটিগুলো অংশ নেবে। এখন দেখার, শাস্ত্রীয় পবিত্রতা এবং উৎসবের উন্মাদনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এবার কীভাবে পালিত হয় তিলোত্তমার দুর্গাপুজো।