ডিজে ও পপ কালচার ছেড়ে এবার জেন-জিরা পাঠ করবে হনুমান চালিসা! বাংলায় শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মের নজিরবিহীন উদযাপন !

আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, সোশ্যাল মিডিয়া আর প্রযুক্তির জোয়ার পেরিয়ে এবার বাংলার তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের হাজার বছরের শিকড় ও সনাতন ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করতে শুরু হলো এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন মহাযজ্ঞ! ডিজিটাল যুগের ‘জেন-জি’ অর্থাৎ আজকের উদীয়মান যুবসমাজকে ধর্মীয় সংস্কার ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সমগ্র রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে বিশাল আধ্যাত্মিক অভিযান।

মঙ্গলবার বিকেলে পূজ্য আচার্য শ্রী রামচন্দ্র দাস জি মহারাজের সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠকে মিলিত হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ সাক্ষাতেই স্থির হয় যে, জগৎগুরু শ্রী রামভদ্রাচার্য জি মহারাজের পুণ্য সান্নিধ্যে বাংলায় প্রায় ৫০০ বছর পর অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে একটি ১০০৮ কুণ্ডীয় বৈদিক মহাযজ্ঞ ও বিরাট সনাতন মহাঅনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে চলেছে। বাংলার সনাতন-প্রেমী মানুষ ও নতুন নেতৃত্বের কারণে এই ইতিহাস গড়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান আচার্য রামচন্দ্র দাস।

তবে এই মেগা আধ্যাত্মিক উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো রামানন্দ মিশনের বিশেষ সংকল্প! নতুন প্রজন্মকে তাদের মূল ধারার সাথে যুক্ত করতে পশ্চিমবঙ্গের ১ হাজার ৮টি নির্দিষ্ট স্থানে সমবেতভাবে আয়োজন করা হবে ‘জেন-জি হনুমান চালিসা পাঠ’। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী বিবেকানন্দের এই পুণ্যভূমিতে যে তরুণ সমাজ কোনো কারণে নিজস্ব পারিবারিক বা ধর্মীয় পরম্পরা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিল, তাদের পুনরায় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিরাট উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববরেণ্য সাধুসন্তদের আগমন ও এই বিরাট আধ্যাত্মিক আয়োজন বাংলার মাটিতে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। সনাতন সংস্কৃতিতে জন্মগ্রহণ করা কেবল এক পরিচয় নয়, বরং এক পরম সৌভাগ্য— এই উপলব্ধি জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এখন জোরকদমে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *