মহাপ্রলয়ের ৪ দিন আগে ‘ঘেমে’ গিয়েছিল প্রতিমা! বিপদ-সঙ্কেত দিয়েছিলেন দেবীই!

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে কি সত্যিই সতর্ক করেছিলেন দেবী ভগবতী? নেপালে ভয়াল হড়পা বান ও বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর এমনই এক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাভরেপালানচোক জেলার পঞ্চখাল এলাকায় রয়েছে প্রাচীন পালানচক ভগবতী মন্দির। স্থানীয় মানুষের কাছে এই মন্দির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহুদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত—বড় কোনও বিপদ বা অমঙ্গল আসার আগে দেবীর প্রতিমায় অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা যায়। আর এবারও নাকি তেমনই ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং নেপালের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা RSS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২ অগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে প্রার্থনার সময় পুরোহিতের নজরে আসে অদ্ভুত একটি বিষয়।

দেবীর মুখ এবং কপালে দেখা যায় ছোট ছোট জলবিন্দু। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল, যেন সত্যিই ঘেমে উঠেছে প্রতিমার শরীর। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই মন্দিরে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর প্রতিমায় এই ধরনের পরিবর্তন নাকি কোনও অশুভ ঘটনার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই বিপদ এড়ানোর আশায় মন্দিরে বিশেষ পুজো এবং ক্ষমা প্রার্থনার আচারও পালন করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু এরপরই ঘটে যায় আরও ভয়াবহ ঘটনা। মাত্র চার দিন পর, ২৬ অগস্ট—নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যা আছড়ে পড়ে। প্রচণ্ড বৃষ্টির জেরে তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। বহু এলাকা প্লাবিত হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসে।

আর তারপরই পুরনো সেই বিশ্বাস নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে কি চার দিন আগেই বিপদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দেবী?স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনা নাকি এই প্রথম নয়। তাঁদের বক্তব্য, অতীতেও বড় বিপর্যয়ের আগে পালানচক ভগবতীর প্রতিমায় একই ধরনের জলবিন্দু দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৭৪ এবং ১৯৮৭ সালের ভূমিকম্পের আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি ২০০১ সালে নেপালের রাজপ্রাসাদে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের আগেও দেবীর মূর্তি ‘ঘেমে উঠেছিল’ বলে স্থানীয়দের মধ্যে একটি বিশ্বাস রয়েছে। প্রাচীন নেপালে এই বিশ্বাসের প্রভাব নাকি রাজপরিবার পর্যন্ত ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, কোনও মন্দিরে দেবীর প্রতিমায় এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে রাজাকে বিশেষ পুজো এবং ক্ষমা প্রার্থনার আচার পালনের নির্দেশ দেওয়া হত। বিজ্ঞান অবশ্য বলছে, বর্ষাকালে মন্দিরের ভিতরে বাতাসের আর্দ্রতা অনেক বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, পাথরের প্রতিমার তাপমাত্রা যদি আশপাশের বাতাসের তুলনায় কম থাকে, তাহলে বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প প্রতিমার ঠান্ডা পৃষ্ঠে জমে ছোট ছোট জলবিন্দু তৈরি করতে পারে। তাপমাত্রার পার্থক্য, বাতাসের আর্দ্রতা এবং মন্দিরের পরিবেশ—এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই এমনটা ঘটতে পারে। তবে নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের সঙ্গে এই ঘটনার সময়ের মিল নতুন করে মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *