durga puja

দুর্গাপুজোর ভিডিও বানিয়ে প্রচার করলেই মিলতে পারে মোটা টাকা! এমনই সুযোগ নিয়ে হাজির পশ্চিমবঙ্গ সরকার

এ মাসটা শেষ হলেই বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। আর ২০২৬-এর দুর্গোৎসবকে ঘিরে এবার বড়সড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। শুধু কলকাতা বা বাংলার গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকবে না পুজোর আবেগ। বাংলার দুর্গাপুজোকে এবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বিশ্বের দরবারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তো বটেই, বিদেশের মাটিতেও বাংলার পুজো নিয়ে যে বিপুল কৌতূহল, সেই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুজোকে অন্যতম বড় পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য।

আর এই প্রচারের অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া। বাংলার পুজোর ছবি, ভিডিও, গল্প এবং আবেগ পৌঁছে যাবে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের কাছে। সেই লক্ষ্যেই ‘বিশ্বজুড়ে বাঙালির আবেগ দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ কর্মসূচির মাধ্যমে বড়সড় প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ পুজোর মণ্ডপে ভিড় করার পাশাপাশি এবার ক্যামেরা হাতে নেমে পড়ার সুযোগও থাকছে। কারণ পুজোর কনটেন্ট তৈরি করেও মিলতে পারে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক।

শুধু কলকাতার পুজো নয়, প্রতিমা তৈরির একেবারে গোড়ার গল্প থেকে শুরু করে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছনো, পুজোর আচার, থিম, আলোকসজ্জা, মণ্ডপসজ্জা এবং সাধারণ মানুষের প্যান্ডেল হপিং সবকিছুকেই তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ কুমোরটুলির মাটির গন্ধ থেকে রাতের আলোকমালায় ঝলমলে মণ্ডপ, বাঙালির উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে প্রচারের উপাদান। লক্ষ্য একটাই বাংলার দুর্গাপুজোকে এমনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা, যাতে বিদেশের পর্যটকদের কাছেও এই উৎসব হয়ে ওঠে আকর্ষণের কেন্দ্র।

আর সেই প্রচারকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে বিদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকেও ভাবনায় রাখা হয়েছে। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, লন্ডন, জাপান, নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার থেকে সিডনি বিমানবন্দর বিশ্বের নজরকাড়া স্থানগুলিতে বাংলার দুর্গাপুজোর প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি অন্তত ১০টি দেশের ২৫টি বা তার বেশি বাঙালি সংগঠনকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে কলকাতার পুজোর ঢাকের আওয়াজ এবার পৌঁছতে পারে সুদূর বিদেশেও।

তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিয়োগে। জানা যাচ্ছে, বাংলার পুজোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিতে কমপক্ষে ২,৬০০ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সকলেই এই সুযোগ পাবেন না। শর্ত হিসেবে ইউটিউবে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার থাকার বিষয়টি রাখা হতে পারে। ফলে যাঁদের ইতিমধ্যেই বড় দর্শকভিত্তি রয়েছে, তাঁদের হাত ধরেই বাংলার পুজোর গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রাজ্যের।

শুধু ট্রাভেল ভ্লগার বা পর্যটন বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতারাই নন, এই তালিকায় থাকতে পারেন ফ্যাশন, ফটোগ্রাফি এবং লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করা ক্রিয়েটররাও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ভ্রমণ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেন্দ্রিক কাজের জন্য এবং বাকি ৪০ শতাংশকে ফ্যাশন, ফটোগ্রাফি ও লাইফস্টাইলের মতো ক্ষেত্র থেকে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে প্রবাসী বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও। অর্থাৎ বাংলার পুজোকে বাংলার বাইরের মানুষের চোখে তুলে ধরবেন এমন মুখই হতে পারেন এই প্রচারের অন্যতম মুখ।
ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইতিমধ্যেই বাংলার দুর্গাপুজোর গুরুত্বকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেছে। এবার সেই পরিচিতিকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রাজ্যের। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পুজোর সময় কলকাতার গলিপথ থেকে কুমোরটুলির ছবি সবই চলে আসতে পারে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মোবাইলের পর্দায়। আর সবচেয়ে বড় কথা, এবার শুধু দর্শক হয়ে পুজো দেখলেই হবে না ক্যামেরা হাতে বাংলার দুর্গাপুজোর গল্প তুলে ধরেও রোজগারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন একটাই, কারা পাবেন সেই সুযোগ, কী থাকবে শর্তে, আর কত টাকাই বা মিলবে?এই কাজের জন্য যেসব কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়োগ করা হবে তাঁরা খুব স্বাভাবিকভাবেই দুর্গাপুজোর ভিডিও করে তা প্রচার করার জন্য সরকারের তরফে নির্দিষ্ট পরিমাণে বেতন বা অর্থ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *