বাংলায় ক্ষমতার মসনদে বসার পর থেকেই এক শ্রেণির বিজেপি নেতা ও স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষমতার তীব্র দম্ভ ও উগ্র মানসিকতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। তোলাবাজি, তোলা আদায় ও চাঁদার জুলুমের পর এবার সরাসরি এক অসহায় পরিচারিকার শ্লীলতাহানি ও যৌন নিগ্রহের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক দাপুটে বিজেপি যুবনেতা। বীরভূমের আহমদপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে বোলপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি অরূপ মণ্ডলকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল বিজেপির কুরুচিকর ও নারী-বিরোধী চরিত্র আবারও জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যেখানে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অরূপ মণ্ডলকে ঘরের ভেতরে বলপূর্বক নিজের পরিচারিকাকে শারীরিক হেনস্থা করতে দেখা যায়। নির্যাতিতা মহিলা আর কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সাহসে ভর করে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। পরিচারিকার সেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ এবং অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে শ্রীঘরে পাঠায়। শুক্রবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা আহমদপুর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনরোষ তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নীচু তলার কর্মী-নেতাদের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়ার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। কখনো তোলাবাজির অভিযোগ, কখনো সাধারণ মানুষের ওপর দাপট দেখানো, আর এবার এক খেটে খাওয়া অসহায় নারীর সম্মানহানি—সব মিলিয়ে বিজেপি নেতাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নিচুতলার এই লাগামহীন উগ্রতা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে দলটির ভেতরে কোনো নীতি বা আদর্শের বালাই নেই। নারী সুরক্ষার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বাস্তবে নিজেদের দলের নেতাদের হাত থেকেই রাজ্যের নারীরা সুরক্ষিত নন, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট।
বর্তমানে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ও যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি দল তথা তাদের সরকারের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধুলোয় মিশে গেছে। বিরোধীদের দমন করতে ক্ষমতার অপব্যবহার করা বিজেপি নেতারা এখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতেও চরম উদাসীন। আহমদপুরের এই নিগ্রহের ঘটনা ফের প্রমাণ করে দিল যে ক্ষমতার অহঙ্কারে কীভাবে একশ্রেণির শাসকনেতা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ এই নারী-বিরোধী বিজেপি নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের লড়াই অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং নির্যাতিতা নারীর বিচার নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকারের এই নীতিহীন শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।নিগৃহীতা পরিচারিকা যাতে সঠিক বিচার পান এবং দোষী বিজেপি নেতা কঠোর শাস্তি পান, সেই দাবি তুলে এখন সরব গোটা এলাকা।