কলকাতা পুরভোটে ঘাসফুল শিবিরের চরম সার্কাস! তৃণমূলের দুই শিবিরের চুলো চুলিতে অবাক রাজনৈতীক মহল !

কলকাতা পুরসভার মোট ওয়ার্ড বা আসন সংখ্যা ২০৯, অথচ একই ঘাসফুল প্রতীকে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে চলেছে ৪১৮ জন প্রার্থী! আসন্ন কলকাতা পুরনিগম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার এমনই এক অভাবনীয়, নজিরবিহীন এবং হাস্যকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর আড়াআড়ি দু’টুকরো হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘আসল তৃণমূল বনাম নকল তৃণমূল’-এর যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, পুরভোটের মুখে তা এবার চরম গৃহযুদ্ধের রূপ নিচ্ছে।

একদিকে কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারকে ঘিরে থাকা পুরনো তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আখরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঘাসফুল প্রতীকে জেতা বিধায়কদের তৈরি বিদ্রোহী শিবির। দু’পক্ষের তরফ থেকেই দাবি করা হচ্ছে— তারাই হলো আসল তৃণমূল কংগ্রেস! কিন্তু দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে, সেই নিয়ে টানাপোড়েন এখন গড়িয়েছে খোদ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ পর্যন্ত। একদিকে যখন নিজেকে দলের সর্বময় চেয়ারপার্সন দাবি করে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা পেশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরও পাল্টা নথিপত্র নিয়ে কমিশনের দরবারে আসল দলের মর্যাদা দাবি করেছে। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে যদি কমিশন এই প্রতীক বিতর্কের কোনো নিষ্পত্তি না করে, তবে কলকাতা পুরসভার ২০৯টি আসনেই দুই শিবিরের মোট ৪১৮ জন প্রার্থী মুখোমুখি সংঘর্ষে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে!

দুই শিবিরের এই অন্তর্ঘাত নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি— বিজেপির মদতেই এই সমান্তরাল গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যাতে ভোট কাটাকাটি করে গেরুয়া শিবির সহজে জিতে যায়। আমজনতা কীভাবে আসল তৃণমূলকে চিনবে, এই প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত ঝাঁঝালো সুরে শোভনদেববাবু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন— “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে। আজ যারা ওপাশে গিয়ে বড় বড় কথা বলছে, তাদের এমন একজন কি আছে যে জীবনে মমতার ছবি না ছেপে ভোটে জিতেছে? বাপের ব্যাটা হলে প্রমাণ দিক!”

পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঋতব্রত শিবিরও। দলের অন্যতম মুখ ঋজু দত্তের সাফ বক্তব্য— দলীয় রণকৌশল এখনই ফাঁস করা হবে না, তবে ২০৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই প্রার্থী দিয়ে লড়বে তাঁদের গোষ্ঠী। বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলকে টিকিয়ে রাখতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তারা ময়দানে ঝাঁপাবে বলে দাবি তাঁর। তবে দুই শিবিরের এই সম্মুখ সমরে চরম বিভ্রান্তির মুখে পড়বেন সাধারণ ভোটাররা। একই প্রতীকে দুই দলের প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেলে সাধারণ মানুষ কাকে ভোট দেবে, আর এই তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে কলকাতা কর্পোরেশন কার দখলে যাবে— সেই উত্তপ্ত রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েই এখন তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *