একসময়ের স্কুলের প্রিয় সহপাঠী আজ বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী! আর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের রক্তজল করা উপার্জনের বেদখল জমি ফিরে পেতে সেই বাল্যবন্ধুর দরবারেই শেষ আর্তি জানালেন ৮১ বছর বয়সী আসগরআলি বোহরা। মুম্বইয়ের ব্যস্ত মীরা রোডের প্রায় ২৮১০ বর্গমিটারের অতি মূল্যবান জমি বহু বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে বেদখল হয়ে যাওয়ার পর, কোনো উপায় না দেখে গত ৮ সেপ্টেম্বর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
ফিরে যাওয়া যাক কয়েক দশক আগের স্মৃতিতে। গুজরাতের ঐতিহাসিক ভডনগরের বি এন হাইস্কুলে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই ক্লাসে পড়াশোনা করতেন এই আসগরআলি। জীবনের গতিপথে মোদী দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হলেও বন্ধুদের প্রতি তাঁর টান কখনো ফিকে হয়নি। সেই ভরসাতেই মুম্বইয়ের বাসিন্দা এই বৃদ্ধ বন্ধু ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি জানান— ১৯৮৯ সালে ভয়নন্দর ইস্টের নবঘরে অত্যন্ত শখ করে ওই জমিটি কিনেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে শ্যাম বিল্ডার ও সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশন নামের দুটি নির্মাণকারী সংস্থা জাল দলিলের কারসাজি করে তাঁর কোটি কোটি টাকার জমি জবরদখল করে সেখানে বহুতল আবাসন গড়ে তোলে।
জমি উদ্ধারের দাবিতে গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় থানা, রাজস্ব দফতর, পুরনিগম থেকে শুরু করে আদালতের দরজায় চক্কর কেটেছেন আসগরআলি। ২০১৫ সালে পুলিশের খাতায় আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো বিচার মেলেনি। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে, যাঁর সাথে ওই বিতর্কিত নির্মাণকারী সংস্থার গভীর যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিকের এই দীর্ঘদিনের কান্নাই যখন প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছাল, অমনি টনক নড়ল স্থানীয় প্রশাসনের।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসগরআলির সাক্ষাতের পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই জমি সংক্রান্ত চরম বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উচ্চপর্যায়ের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত দুই বিল্ডারকেই সশরীরে হাজির থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে আমলাতন্ত্র ও পুলিশ এতদিন সাধারণ মানুষের ফাইল আটকে রেখেছিল, শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসতেই তারা এখন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে। জীবনের সায়াহ্নে এসে প্রধানমন্ত্রীর এই বাল্যবন্ধু এখন বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন— শৈশবের সেই অটুট বন্ধুত্বের হাত ধরেই হয়তো এবার দীর্ঘ ১৫ বছরের জমি মাফিয়ার অন্ধকার কাটিয়ে তিনি ফিরে পাবেন নিজের ন্যায্য অধিকার।