উৎসবের মরশুম মিটলেই বেজে উঠবে কলকাতা ও হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার মেগা নির্বাচনী দামামা। আর সেই পুরভোটের বৈতরণী পার করতে নিজেদের রণকৌশল ও প্রচারযন্ত্রকে এক ইঞ্চিও ঢিলেঢালা রাখতে চাইছে না ভারতীয় জনতা পার্টি। মাত্র কয়েকদিন আগেই দলের পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করে পুরনো ও নতুন মুখের সুষম ভারসাম্য তৈরি করেছিল পদ্মশিবির। এবার পুরভোটের ময়দানে প্রতিপক্ষকে তথ্য ও যুক্তির ধারালো অস্ত্রে ঘায়েল করতে দলের মিডিয়া, আইটি, সোশ্যাল মিডিয়া সেল এবং মুখপাত্রদের সম্পূর্ণ তালিকা ঢেলে সাজালেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রবিবার বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক রদবদলের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রচার ও জনসংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অর্থাৎ মিডিয়া বিভাগের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অনুপম ঘোষের কাঁধে। তাঁর সঙ্গে কো-কনভেনর হিসেবে কাজ সামলাবেন পার্থসারথি চৌধুরী এবং চন্দ্রশেখর বসুতিয়া। আধুনিক ডিজিটাল লড়াইয়ের জমি শক্ত করতে আইটি সেলের কনভেনর করা হয়েছে জয় মল্লিককে। তাঁর সহকারী কো-কনভেনর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন চারজন— রত্নেশ সিং, রাম্যজ্যোতি সরকার, সব্যসাচী রায় এবং শুভজিৎ কর্মকার। পাশাপাশি, তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়া সেলের কনভেনর পদে আনা হয়েছে উপমন্যু ভট্টাচার্যকে, এবং কো-কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতম ভট্টাচার্য ও ক্যামেলিয়া সান্যাল।
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে টেলিভিশন ও প্রকাশ্য বিতর্কের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা অর্থাৎ মুখপাত্রদের প্যানেলে। আইনজীবী তথা পোড়খাওয়া নেতা দেবজিৎ সরকারকে করা হয়েছে দলের প্রধান মুখপাত্র। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে ১৪ জনের এক ঝাঁঝালো মুখপাত্রের মেগা টিম। এই তালিকায় রীতেশ তিওয়ারি, কেয়া ঘোষ, সায়ন্তন বসু, প্রণয় রায়ের মতো পরিচিত ও পোড়খাওয়া নেতাদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন ডক্টর তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওপেলিয়া সিংহ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, ডক্টর নিখিল প্রসূন সিং, শমীক দাশগুপ্ত, সুদীপ্ত গুহ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর ঋত্বিক পাল। এর মধ্যে সপ্তর্ষি চৌধুরীকে মুখপাত্রের পাশাপাশি দলের লিটারেচার বা প্রকাশনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে।
কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ভোটকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই ইনচার্জ ও কনভেনরদের নাম চূড়ান্ত করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলস্তরের সংগঠনের পর এবার ডিজিটাল প্রচার ও বৌদ্ধিক লড়াইয়ের এই সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রমাণ করে দিচ্ছে— বিগত সরকারের যাবতীয় অনিয়মকে কাঠগড়ায় তুলে এবং নতুন সরকারের জনমুখী সুশাসনকে সামনে রেখে পুরভোটের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও বিরোধীদের ছাড়তে প্রস্তুত নয় বঙ্গ বিজেপি।