ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে হয়ে গেল ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে কয়েকদিনের জন্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ভারতের রাজধানী। আর এই সফরে বিশেষ নজর ছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে। কারণ, ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারত সফরে এলেন তিনি। কিন্তু পুতিন দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই রাশিয়া থেকে এসে গিয়েছিল তাঁর সফরের বিশেষ প্রস্তুতি।পুতিনের আগেই নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে নামে তিনটি রুশ সামরিক পরিবহণ বিমান। তার মধ্যে ছিল বিশালাকার আইএল-৭৬। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কড়া, তা বোঝা যায় এই প্রস্তুতি থেকেই। পুতিনের সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটা বড় অংশই আগেভাগে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
আর সেই বিশাল বিমানগুলির একটির পেটেই দিল্লিতে পৌঁছেছিল পুতিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরসঙ্গী তাঁর নিজস্ব সরকারি গাড়ি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতোই পুতিনও বিদেশ সফরে নিজের বিশেষ গাড়ি সঙ্গে রাখেন। ফলে ভারত সফরেও রাশিয়া থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল পুতিনের সরকারি গাড়ি অরাস সেনাত লিমুজিন।
রাশিয়ান রোলস-রয়েস নামে পরিচিত এই গাড়ি শুধু বিলাসবহুল নয়, এর মূল পরিচয় নিরাপত্তা। রাজধানীর রাস্তায় পুতিন যখন এই গাড়িতে চেপে যাতায়াত করেছেন, তখন গাড়িটিকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়। বাইরে থেকে দেখতে বিলাসবহুল লিমুজিন হলেও ভিতরে এটি কার্যত একটি চলমান সুরক্ষিত দুর্গ।
পুতিনের জন্য তৈরি অরাস সেনাতকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামির বিশেষ কোর্টেজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর পিছনে ছিল ক্রেমলিনে ব্যবহৃত সাঁজোয়া মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস ৬০০ গার্ড পুলম্যানের বিকল্প তৈরি করার ভাবনা। অর্থাৎ শুরু থেকেই এই গাড়ির লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র আরাম বা আভিজাত্য নয়, রাষ্ট্রপ্রধানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া।২০১৮ সালে চতুর্থবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় প্রথমবার জনসমক্ষে আসে পুতিনের এই বিশেষ গাড়ি। তারপর থেকেই অরাস সেনাত হয়ে উঠেছে রুশ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার অন্যতম প্রতীক। গাড়িটির ভিতরের বহু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এখনও অত্যন্ত গোপন রাখা হয়।
তাই পুতিনের ভারত সফরে এই গাড়ির আগমনও নিছক গাড়ি নিয়ে আসার ঘটনা নয়। রাশিয়া যে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তারই বড় উদাহরণ । হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে সামরিক পরিবহণ বিমানে করে প্রেসিডেন্টের গাড়ি উড়িয়ে আনা তারপর দিল্লির রাস্তায় সেই গাড়িকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। সব মিলিয়ে পুতিনের এই চলমান দুর্গ এখনও কৌতূহলের কেন্দ্রে।