রেশন কার্ড রয়েছে? তাহলে হাতে সময় আর মাত্র কয়েকটা দিন। ১ অক্টোবর থেকেই নিষ্ক্রিয় হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়া একাধিক রেশন কার্ড। রাজ্যের খাদ্য ব্যবস্থায় ভুয়ো, অযোগ্য এবং নিষ্ক্রিয় কার্ড চিহ্নিত করে তালিকা পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য দফতরের নজরে এসেছে, বহু মানুষ রেশন কার্ড তৈরি করলেও দীর্ঘদিন ধরে রেশন দোকান থেকে কোনও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করছেন না। কেউ আবার পরিচয়পত্র হিসেবে কার্ড ব্যবহার করছেন, আবার কেউ অন্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় কার্ড রেখে দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত যোগ্য গ্রাহকদের কাছে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় কার্ড চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন প্রশ্ন, কারা সমস্যায় পড়তে পারেন?
মূলত দীর্ঘদিন ধরে রেশন না তোলা এবং নিষ্ক্রিয় থাকা কার্ডগুলিই এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে। অর্থাৎ আপনার পরিবারের কার্ড থাকলেও যদি নিয়মিত বরাদ্দ সংগ্রহ না করা হয়ে থাকে, তাহলে কার্ডের বর্তমান স্ট্যাটাস একবার যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কার্ড সচল রাখতে কী করতে হবে?
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেশন দোকান থেকে বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে গ্রাহকের কার্ডটি সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা বোঝা সম্ভব হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেশন তুলতে না পারলেই যে কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে, এমনটা নয়।
এখন প্রথম কাজ হল নিজের কার্ডের Active অথবা Deactive status যাচাই করা। নিকটবর্তী রেশন ডিলারের কাছ থেকে এই তথ্য জানা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্য দফতরের নির্দিষ্ট পোর্টালেও কার্ডের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। কোনও কারণে ১ অক্টোবর থেকে কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও গ্রাহকদের জন্য পুনরায় সচল করার পথ রাখা হয়েছে।
সেক্ষেত্রে করতে হবে e-KYC। আধার নম্বর এবং বায়োমেট্রিক অর্থাৎ আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
+++++
নির্দিষ্ট খাদ্য দফতরের অফিস অথবা অনুমোদিত কেন্দ্রে গিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
তথ্য এবং পরিচয় যাচাই সফল হলে নিষ্ক্রিয় রেশন কার্ড ফের সক্রিয় করার সুযোগ পাওয়া যাবে। তাই কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেই যে চিরতরে রেশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি তেমন নয়।
তাই আপনার পরিবারের কারও রেশন কার্ড দীর্ঘদিন ব্যবহার না হয়ে থাকলে দেরি না করে কার্ডের বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করুন। প্রয়োজনে রেশন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং e-KYC সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন।
কারণ ১ অক্টোবরের আগে নিজের কার্ডের অবস্থাটা জানা থাকলে পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। রেশন কার্ড নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই খাদ্য দফতরের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করে নিন।