ককরোচ আন্দোলন ঘিরে যখন দেশের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুজরাতের পুর নির্বাচনের ফলাফলে বড়সড় চমক! ভোটের ময়দানে ফের গেরুয়া ঝড়। গান্ধীনগর পুরনিগমের দখল ধরে রাখতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী বিজেপি। ৪৪টি আসনের মধ্যে একাই ৩৮টি আসন দখল করেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, গতবার অন্তত একটি আসনে জিতলেও এবার খাতাই খুলতে পারল না আম আদমি পার্টি। তাহলে কি গান্ধীনগরে আরও শক্তিশালী হল বিজেপির রাজনৈতিক জমি? নাকি এই ফলাফলের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ?
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ভোট গণনার পর সামনে আসে গান্ধীনগর পুরনিগমের ফলাফল। ১১টি ওয়ার্ডের মোট ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ, প্রায় ৮৬.৪ শতাংশ আসন গিয়েছে শাসক দলের দখলে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস পেয়েছে পাঁচটি আসন। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। ফলাফল বলছে, পুরনিগমে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিজেপিকে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। বিপুল আসনে জয় পেয়ে পুরসভায় নিজেদের কর্তৃত্ব আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল গেরুয়া শিবির।তবে এই জয়ের মধ্যেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্ক। ২০২১ সালের পুর নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৪১টি আসন। অর্থাৎ, পাঁচ বছর পর আসনসংখ্যা কমেছে গেরুয়া শিবিরের। অন্যদিকে, কংগ্রেসের আসনসংখ্যা দু’টি থেকে বেড়ে হয়েছে পাঁচ। গতবার একটি আসনে জয়ী হয়েছিল আম আদমি পার্টি। এবার সেই একটি আসনও ধরে রাখতে পারল না তারা। ফলে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেসের আসন বৃদ্ধি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলে বিশেষ নজর কেড়েছে ছ’নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে চারটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। অর্থাৎ, এই ওয়ার্ডে বিজেপিকে কার্যত এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েনি হাত শিবির। পাশাপাশি, সাত নম্বর ওয়ার্ডেও একটি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, দু’নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন এক নির্দল প্রার্থী। এই কয়েকটি ওয়ার্ডের ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছে, বিজেপির দাপটের মধ্যেও কিছু এলাকায় বিরোধীরা নিজেদের জমি শক্ত করতে পেরেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই জয় কি ভবিষ্যতে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত?
শুধু গান্ধীনগর নয়, গুজরাতের আরও দুই পুরসভাতেও নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে বিজেপি। থারা পুরসভায় মোট ২৪টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, ওখা পুরসভায় ৩৬টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে গিয়েছে ৩৩টি আসন। অর্থাৎ, রাজ্যের তিনটি শহুরে স্থানীয় প্রশাসনেই বিজেপির দাপট স্পষ্ট। একের পর এক পুরসভায় জয় ধরে রেখে গুজরাতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিল শাসক দল। তবে এই ফলাফল কতটা রাজ্য রাজনীতির বৃহত্তর ছবিকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
এদিকে, গান্ধীনগরে বিজেপির এই বিপুল জয়ের পাশাপাশি আম আদমি পার্টির শূন্য আসন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। গত নির্বাচনে একটি আসন জিতেও এবার কেন সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারল না আপ? সংগঠনের দুর্বলতা, ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন, নাকি বিজেপির শক্তিশালী নির্বাচনী কৌশল!কোন কারণ কাজ করেছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের আসন বৃদ্ধি দলটির পক্ষে কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামনে তা কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবে, সেটাই এখন দেখার।
ককরোচ আন্দোলনের আবহে গুজরাতের পুর নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির কাছে বড় রাজনৈতিক স্বস্তি। গান্ধীনগরে ৪৪টির মধ্যে ৩৮টি আসনে জয়, থারা ও ওখাতেও ক্ষমতা ধরে রাখা সব মিলিয়ে গেরুয়া শিবিরের দাপট স্পষ্ট। তবে ২০২১ সালের তুলনায় আসন কমা এবং কংগ্রেসের আসন বৃদ্ধি উপেক্ষা করার মতো নয়। অন্যদিকে, একটি আসনেও জিততে না পারা আম আদমি পার্টির সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই ফলাফল কি গুজরাতে বিজেপির আধিপত্য আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিত, নাকি বিরোধীদের জন্য নতুন করে ঘর গোছানোর বার্তা? আগামী দিনের রাজনীতিই দেবে সেই উত্তর।