পুজোর আবহে হঠাৎ মমতাকে এমন অনুরোধ কেন করলেন শুভেন্দু? নেপথ্যের কারণ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা।

দিল্লির পর এবার কলকাতার রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি। আর সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আবহে কেন মিছিলের প্রয়োজন, সেই প্রশ্ন তুলে মমতাকে এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মিছিলের রুট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূলের তরফে মঙ্গলবার দেবীপক্ষের তৃতীয়ার দিন কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টো নাগাদ রাজাবাজার থেকে শুরু হয়ে মিছিল যাওয়ার কথা পার্ক সার্কাস পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। দলের প্রচারপত্রে এটিকে ‘বিপুল প্রতিবাদ মিছিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর এই মিছিলের আগেই শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বয়সে বড় বলেই তাঁকে অনুরোধ করছেন—এই ধরনের কর্মসূচি না করাই ভালো। অর্থাৎ, সরাসরি মিছিল বন্ধ রাখার পরামর্শই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু শুধু কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি নয়। মিছিলের রুট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত কেন এই নির্দিষ্ট পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তাঁর। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে রুট নির্বাচনও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এরপরই আসে আরও কড়া মন্তব্য। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, পুলিশকে তিনি বলবেন, যেখানে মিছিল শুরু হবে, সেখানেই যেন সেটি শেষ করে দেওয়া হয়। এই মন্তব্যের ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—মিছিলের অনুমতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়?

তৃণমূলের এই কর্মসূচি অবশ্য আচমকা নয়। দিল্লিতে বিরোধী জোটের কর্মসূচির পর এবার কলকাতাতেও রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিও এই কর্মসূচির অন্যতম প্রেক্ষাপট।

তৃণমূলের ছাত্র ও যুব শাখার উদ্যোগে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। দলের তরফে কর্মী-সমর্থকদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে আগের পর্যায়ে স্পষ্টতা ছিল না। দিল্লির কর্মসূচির পর তাঁর কলকাতায় ফেরার সময়সূচির উপরও বিষয়টি নির্ভর করছিল।

এদিকে পুজো শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। সেই সময় রাজাবাজার, সিআইটি রোড হয়ে পার্ক সার্কাসের মতো ব্যস্ত এলাকায় বড় রাজনৈতিক মিছিল হলে যান চলাচল নিয়েও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মিছিলের কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দিল্লির আন্দোলন নিয়েও মমতাকে নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে মিছিলের ক্ষেত্রে এখন মূল নজর থাকবে প্রশাসনের অবস্থান এবং কর্মসূচির বাস্তব রূপের দিকে।

অর্থাৎ, একদিকে পুজোর আবহে কলকাতার রাজপথে মিছিলের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সেই কর্মসূচি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি আপত্তি—সব মিলিয়ে তৃতীয়ার কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। এখন দেখার, শুভেন্দুর অনুরোধের পর মমতার কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, আর প্রশাসন শেষ পর্যন্ত মিছিল নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *