নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের যে নাটক শুরু করেছে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলি— এবার সেই বিক্ষোভের মুখেই এক বিস্ফোরক ঐতিহাসিক সত্য প্রকাশ্যে এনে কংগ্রেসের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি! অতীতে কংগ্রেসের জমানায় কীভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে পদদলিত করে নিজেদের পছন্দের ও অনুগত আধিকারিকদের বসানো হতো, এবং অবসর গ্রহণের পর কীভাবে তাঁদের রাজ্যপাল পদ, পদ্মবিভূষণ সম্মান ও লোকসভার টিকিট দিয়ে পুরস্কৃত করা হতো— মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে তার সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং রাজীব রঞ্জন সিং।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন। তিনি সরাসরি রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন— “যাঁরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন নির্ভুলভাবে দাখিল পর্যন্ত করতে পারেন না, বানান আর তথ্যের ভুলে যাদের পিটিশন বারবার ধাক্কা খায়, তাঁরা আবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করার আস্ফালন দেখান কীভাবে? রাহুল গান্ধী আসলে তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর স্বৈরাচারী পথেই চলতে চান। দেশে পুনরায় সেই অগণতান্ত্রিক জরুরি অবস্থার আবহ ফিরিয়ে আনাই তাঁর আসল উদ্দেশ্য।”
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির যে মনগড়া অভিযোগ তুলে বিরোধীরা দ্বিচারিতা করছে, তার স্বরূপ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কংগ্রেস আমলের একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরেন। পীযূষ গোয়েল স্মরণ করিয়ে দেন— কংগ্রেস জমানায় নির্বাচন কমিশনারদের প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতো। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনকে অবসর গ্রহণের পর গান্ধীনগরে খোদ এল কে আডবাণীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হয়েছিল। অপর এক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে অবসরোত্তর উপহার হিসেবে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পর্যন্ত বানানো হয়!
কমিশনের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক আনুগত্যের আরও ইতিহাস তুলে ধরে বিজেপি নেতৃত্ব জানান— ১৯৮৬ সালে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আর কে ত্রিবেদীকে অবসরের ঠিক পরেই গুজরাতের রাজ্যপাল পদে বসিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। শুধু তাই নয়, বিতর্কিত ভাবমূর্তির নবীন চাওলাকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে আসীন করা হয়েছিল কেবল এই কারণে যে, নির্বাচন কমিশনার থাকাকালীন তিনি সবসময় একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিবারের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। অতীতে কোনো বিরোধী দলনেতা বা বিচারবিভাগের সঙ্গে আলোচনা না করে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে নিজেদের ক্যাবিনেট থেকেই পছন্দের অনুগত ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে বসাত কংগ্রেস সরকার।
কংগ্রেসের সেই কালো ইতিহাসের সাথে বর্তমান মোদী সরকারের স্বচ্ছ ব্যবস্থার তুলনা টেনে পীযূষ গোয়েল জানান— ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছেন। বর্তমান ব্যবস্থায় দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা একসঙ্গে বসে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করেন।
সাংবাদিক বৈঠকে এনডিএ নেতৃত্বের এই আক্রমণ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল— নিজেদের আমলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে পুরস্কৃত করা দল যখন আজ নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তোলে, তখন সেই দ্বিচারিতা ও কপটতা দেশবাসীর সামনে আর ঢাকা থাকে না!