ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন অঙ্গোমচা বিমোল আকোইজাম। তিনি কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত ইনার মণিপুরের লোকসভা সাংসদ। পাশাপাশি তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থাৎ JNU-র স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীনে সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমসের অধ্যাপক ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী যৌন হেনস্থা এবং অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগকারীদের সংখ্যা অন্তত ১১ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল, ছাত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাবার্তায় পেশাগত সীমারেখা লঙ্ঘন, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং অনভিপ্রেত শারীরিক আচরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে। এরপর ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আকোইজামকে অধ্যাপকের পদ থেকে বরখাস্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপের পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ১২ অক্টোবর দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিল বের করে বিজেপি মহিলা মোর্চা।
‘নারী শক্তি হুঙ্কার আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপি মহিলা মোর্চার জাতীয় সভানেত্রী ও সাংসদ রূপকুমারী চৌধুরী। কর্মসূচিতে বিজেপির মহিলা সাংসদ, বিধায়ক এবং অন্যান্য মহিলা নেত্রীরাও অংশ নেন। মিছিলটি দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের অন্ধ্র এডুকেশন সোসাইটি স্কুলের কাছ থেকে শুরু হয়ে কংগ্রেসের সদর দফতরের দিকে এগোয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, অভিযুক্ত সাংসদকে কংগ্রেস থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে, তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি নেত্রীদের অভিযোগ, মহিলাদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের কথা বললেও অভিযুক্ত সাংসদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতৃত্ব যথেষ্ট পদক্ষেপ করছে না। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে পরিস্থিতি একসময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে কংগ্রেস দফতরের গেটের কাছে পৌঁছে যান। সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর দিল্লি পুলিশ বিজেপির একাধিক নেত্রী-সহ কয়েকশো বিক্ষোভকারীকে আটক করে আইপি এস্টেট থানায় নিয়ে যায়। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন আকোইজাম এবং রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল পোড়ানো হয় বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর বিজেপি মহিলা মোর্চার কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, প্রতিবাদের সময় তাঁদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা করা হয়েছে এবং অশালীন ভাষায় কথা বলা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা এই অভিযোগে দিল্লির কেন্দ্রীয় জেলার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।