ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে সামনে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশন বা প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ১৩.২১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে নেট ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.৩৮ লক্ষ কোটি টাকা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে আয়কর এবং কর্পোরেট ট্যাক্সের মতো প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পিছনে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি? চলুন, একে একে জেনে নেওয়া যাক।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কর্পোরেট ট্যাক্স আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে কর্পোরেট ট্যাক্স কালেকশন ২০.৫৮ শতাংশ বেড়ে ৫.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তি করদাতা, ফার্ম এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বা HUF-এর কাছ থেকে সংগৃহীত নন-কর্পোরেট ট্যাক্স বেড়েছে ৫.৮৩ শতাংশ। এই খাতে কর আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৯২ লক্ষ কোটি টাকা।
এবার আসা যাক শেয়ার বাজারের কথায়। প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহের পরিসংখ্যানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স বা STT থেকে আয় বৃদ্ধি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত STT আদায় ৫২ শতাংশ বেড়ে ৪৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শেয়ার বাজারে নির্দিষ্ট ধরনের লেনদেনের উপর এই কর ধার্য করা হয়। ফলে STT আদায়ের এই বৃদ্ধি বাজারের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান। তবে শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
সরকার শুধু কর সংগ্রহই করেনি, করদাতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরতও দিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে মোট ২.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা ট্যাক্স রিফান্ড করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ২৪.২২ শতাংশ বেশি। ট্যাক্স রিফান্ড হল সেই অতিরিক্ত করের অর্থ, যা কোনও করদাতা তাঁর প্রকৃত করের দায়ের তুলনায় বেশি জমা দিয়েছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী যা তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়। রিফান্ড বাদ দেওয়ার আগে মোট প্রত্যক্ষ কর আদায় ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৬.০৩ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কর্পোরেট ট্যাক্স থেকে এসেছে প্রায় ৭.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ব্যক্তি করদাতা, ফার্ম এবং HUF-সহ নন-কর্পোরেট করের পরিমাণ প্রায় ৮.০৩ লক্ষ কোটি টাকা।
এখন প্রশ্ন হল, ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশনের এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য কী ইঙ্গিত দেয়? প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়লে তা সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি ব্যয়, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সরকারের হাতে আরও বেশি রাজস্ব আসতে পারে। তবে শুধু কর আদায় বৃদ্ধি পেলেই দেশের অর্থনীতির সমস্ত দিক শক্তিশালী হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে জিডিপি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদন এবং সরকারি ব্যয়ের মতো অন্যান্য সূচকও বিশ্লেষণ করা জরুরি। সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশনে ১৩.২১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গ্রস কালেকশনে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কর্পোরেট ট্যাক্স, নন-কর্পোরেট ট্যাক্স এবং STT—বিভিন্ন খাতের সংগ্রহ এই হিসাবকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। পাশাপাশি, করদাতাদের রিফান্ডের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।