SIR-এর পর এবার SSR। ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক এবং বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের মধ্যেই বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল সামারি রিভিশন বা SSR-এর মাধ্যমে এবার ভোটার তালিকা আরও একবার সংশোধন ও আপডেট করা হবে। বাংলাসহ মোট ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল লক্ষ্য দুটি। একদিকে নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় যুক্ত করা, অন্যদিকে SIR-এর সময় বৈধ ও যোগ্য ভোটারদের কারও নাম বাদ গিয়ে থাকলে, নিয়ম মেনে সেই নাম ভোটার তালিকায় ফেরানোর সুযোগ দেওয়া। ফলে SIR নিয়ে যে বিতর্ক এবং অভিযোগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই SSR-কে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাঁদের বয়স ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরাও এই SSR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ প্রথমবার ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের জন্যও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
SSR-এর আওতায় রয়েছে একাধিক রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অসম, বিহার, ছত্তীসগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, পুদুচেরি, পঞ্জাব, রাজস্থান, তামিলনাড়ু এবং উত্তরাখণ্ড। অর্থাৎ SIR-এর পর এবার এই বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে বুথগুলির পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে SSR-এর খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় সংশোধন, দাবি বা আপত্তির সুযোগ থাকবে।
এরপর আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে SSR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে ভোটারদের নিজেদের নাম এবং তথ্য যাচাই করার সুযোগ থাকবে।
বিশেষ করে যাঁদের নাম SIR-এর সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কাছে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ SSR-এর মাধ্যমে যোগ্য নাগরিকদের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
একইসঙ্গে নতুন ভোটারদের কাছেও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে যাঁরা ১৮ বছরে পা দেবেন, তাঁরা ভোটার হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।
এর মধ্যে পঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় SSR শুরু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে SIR পরবর্তী এই নতুন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা আরও একবার যাচাই ও সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে।
এখন নজর থাকবে ১২ নভেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকার দিকে। সেখানেই পরিষ্কার হবে, SIR-এর পর কার নাম রয়েছে, কার নাম নেই এবং পরবর্তী ধাপে কারা নিজেদের নাম যুক্ত বা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছেন।