উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, একটি দেশের অগ্রগতি শুধু পরিসংখ্যানের হিসাব নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা। সেই উন্নয়নের যাত্রাকেই মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত যেভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে, তা তাঁদের এই থিম ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই মণ্ডপসজ্জার মধ্য দিয়ে দেশের অগ্রগতি ও আত্মনির্ভরতার বার্তা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই থিমের ভাবনায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে
আমেরিকা-ইরান সংঘাত, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন সংঘাত ও অস্থিরতার ছবি, তখন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারত যেভাবে নিজের জায়গা তৈরি করছে, সেই আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির কাহিনিই এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ।
তবে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূর্তিই। দেবী দুর্গার সামনে তাঁকে প্রণাম জানাতে দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে দেশের নেতৃত্ব, উন্নয়নের ভাবনা এবং দেবীর কাছে দেশবাসীর মঙ্গলকামনাকে একসঙ্গে তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, দেশের অগ্রগতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ, শান্তি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রার্থনাই তাঁদের এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পুজো কমিটির এক কর্তার কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সেই ভাবনাকে সম্মান জানাতেই মণ্ডপে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বার্তার পাশাপাশি প্রত্যেক ভারতবাসীর জীবনে সুখ-শান্তি কামনা করছেন তাঁরা। কারণ, উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তার সুফল পৌঁছয় সাধারণ মানুষের জীবনে, মানুষের মুখে ফোটে হাসি, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস পায় নতুন প্রজন্ম।