ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর, সোমবার। বাংলাদেশের ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের একদল পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন।
কিন্তু ওই জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছাকাছি হওয়ায় আপত্তি জানান হিন্দু পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, মন্দিরের এত কাছে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। তাই অন্য জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তাঁরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মহম্মদ আজম খান। পরে আয়োজকেরা মন্দির থেকে দূরে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। তবে সেখানেই বিতর্কের অবসান হয়নি। বরং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনার দু’দিন পর, ১৪ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ক্যাম্পাসের মধ্যে পশু জবাই করা থেকে পড়ুয়া, শিক্ষক ও কর্মীদের বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তি নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
একদল পড়ুয়ার অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশের মাধ্যমে তাঁদের অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
এরপর একই দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে জানানো হয়, ১২ অক্টোবরের ঘটনাটি আলোচনার মাধ্যমে মিটে গিয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে বলেও স্পষ্ট করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের প্রথম বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে এবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেন একদল পড়ুয়া। তবে এবার মন্দিরের পাশে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের কাছের একটি খোলা মাঠকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যেই চাঁদা সংগ্রহ করেছেন পড়ুয়ারা এবং একটি গরুও কিনেছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের তরফে আরও একটি গরু দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই অনুষ্ঠান নিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য ৭০ টাকা দিয়ে নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম আরিফ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান জানিয়েছেন, পশু জবাই করা হলে তা যেন সংযতভাবে করা হয়, যাতে ধর্মীয় ভাবাবেগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না হয়। অন্যদিকে, জয় সাহা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের অন্য কোনও জায়গায় গরু জবাই করা হলে মন্দির পরিচালন কমিটির আপত্তি নেই। তবে মন্দিরের সামনে তা করা যাবে না এবং মন্দিরের কার্যকলাপে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।