সপ্তমীতে ঠাসা কর্মসূচি তাঁর!এই পুজোতে বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

পুজোয় বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উৎসবের আনন্দের মাঝেই তাঁর এই বঙ্গ সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর। আর রবিবার, প্রথম সপ্তমীর সকালে শুরু হবে একগুচ্ছ কর্মসূচি। বেলুড় মঠের আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো মণ্ডপ একাধিক জায়গায় যাওয়ার কথা তাঁর। তবে এই সফরে বিশেষ নজর উত্তর কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয়। কারণ, সেখানে শুধু দেবী দর্শন নয়, জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বনেদিয়ানার আবেগ।

এ বছর ২৭০ বছরে পা দিয়েছে শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রীতি মেনেই এখানে পূজিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা। সময় বদলেছে, বদলেছে শহরের চেহারা, কিন্তু রাজবাড়ির পুজোর ঐতিহ্যে আজও রয়ে গিয়েছে সেই পুরনো দিনের ছোঁয়া। সপ্তমীর সকালে অঞ্জলি, পুজোপাঠ, চালকুমড়ো বলি সব মিলিয়ে রাজবাড়ির অন্দরে তখন উৎসবের ব্যস্ততা। আর সেই ঐতিহ্যের টানেই এবার রাজবাড়িতে আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। রাজপরিবারের কাছে এই আগমন তাই নিছক একজন বিশিষ্ট অতিথির আসা নয়, বরং বহু বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া একটি বিশেষ মুহূর্ত।

শনিবার সন্ধ্যায় আহমেদাবাদ থেকে বিমানে কলকাতায় পৌঁছনোর কথা অমিত শাহের। রাতে আলিপুরের সৌজন্য অতিথিশালায় থাকবেন তিনি। রবিবার সকাল থেকেই তাঁর কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। প্রথমে বেলুড় মঠ, এরপর শোভাবাজার রাজবাড়ি এবং শ্রীভূমির দুর্গাপুজো পরিদর্শন—এই সফরসূচিতে রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, ঐতিহ্য ও আধুনিক পুজোর জাঁকজমকের মেলবন্ধন। একদিকে বেলুড় মঠের শান্ত পরিবেশ, অন্যদিকে উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো, আবার শ্রীভূমির আকর্ষণীয় মণ্ডপ। সব মিলিয়ে পুজোর কলকাতাকে একাধিক দিক থেকে দেখার সুযোগ থাকছে তাঁর এই সফরে।

শোভাবাজার রাজবাড়িতে অমিত শাহের আগমন ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের আয়োজন। অতিথিদের অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সব দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রাজপরিবারের সদস্যদের কথায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের পুজো দেখতে আসছেন, এটা তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তাঁর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে এবারের সপ্তমীতে রাজবাড়ির পুজোয় উৎসবের আবেগের পাশাপাশি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে এই বিশেষ সাক্ষাৎ। পুজোর চেনা আনন্দের মধ্যে এমন অতিথির আগমন রাজপরিবারের কাছে যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।

তবে অমিত শাহের এই বঙ্গ সফরের গুরুত্ব শুধুমাত্র পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে বাংলায় তাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে পুজোর মতো জনসংযোগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বেলুড় মঠ, শোভাবাজার রাজবাড়ি এবং শ্রীভূমির মতো আলাদা পরিচয়ের জায়গায় তাঁর যাওয়ার কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই সফর থেকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং তাঁর কর্মসূচি, কার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং সফর ঘিরে কী প্রতিক্রিয়া সামনে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।

বাংলার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এ রাজ্যের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনেরও প্রতীক। সেই উৎসবের আবহে অমিত শাহের আগমন তাই একদিকে যেমন শোভাবাজার রাজবাড়ির মতো প্রাচীন পুজোকে নতুন করে আলোচনায় আনছে, অন্যদিকে তেমনই তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি ঘিরেও তৈরি করছে কৌতূহল। সপ্তমীতে বেলুড় মঠ থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি, তারপর শ্রীভূমি কেমন কাটে তাঁর এই সফর, কীভাবে তাঁকে স্বাগত জানায় পুজোর কলকাতা, আর এই সফর থেকে কী কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর। উৎসবের আনন্দের মধ্যেই তাই অমিত শাহের বঙ্গ সফর ঘিরে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তিনটি দিকই থাকছে আলোচনার কেন্দ্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *