এবার পুরভোটে বিজেপির মেয়র মুখ সজল ঘোষ ! জল্পনা উস্কে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের! শুক্রবারেই রাজ্য বিজেপির মেগা বৈঠক সাথে তৎপর বিরোধী ঋতব্রত শিবিরও !

শারদোৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই বাংলায় বেজে উঠল আসন্ন পুরভোটের রণদামামা! রাজ্যের শাসনভার পরিবর্তনের পর এবার পুরসভা ও কলকাতা পুরনিগমের দখল নিতে পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল বিজেপি। কোন রণকৌশলে লড়বে দল? বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কাউন্সিলরদের জন্য কি খুলে যাবে পদ্মের দরজা? আর সবচেয়ে বড় জল্পনা— উত্তর ও মধ্য কলকাতার হেভিওয়েট নেতা তথা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের রূপকার সজল ঘোষই কি হতে চলেছেন বিজেপির প্রজেক্টেড মেয়র পদপ্রার্থী? যাবতীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রশ্নের খোলামেলা এবং চাঁচাছোলা জবাব দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

শুক্রবারই পুরভোটের কৌশল ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। একই সাথে সমান্তরালভাবে বৈঠকে নেমেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসও। অন্যদিকে, ক্ষমতা হারিয়ে রাজনৈতিক ব্যাকফুটে চলে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল দল আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোট বাঁধার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এই বিরোধী জোটের তৎপরতাকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সোজাসাপটা তোপ দাগেন। তিনি বলেন— “বিরোধীরা আজ পুরোপুরি ছন্নছাড়া। বিগত ৫০ বছর ধরে যারা বাংলাকে লুটে রাজত্ব করেছে, মানুষ তাদের চরিত্র খুব ভালো করেই দেখে নিয়েছে। জনগণের কাছে ওদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আজ তলানিতে। তাই বিরোধীদের এই জোটের নাটক নিয়ে বাংলার মানুষের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।”

এদিকে পুরভোটের প্রাক্কালে পুরসভার অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র দলবদলের কানাঘুষো। রাজনৈতিক সূত্রের খবর— তৃণমূল বোর্ডের একাধিক বিদায়ী ও বর্তমান কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং দলবদল করে নিজেদের ওয়ার্ড থেকে পদ্ম প্রতীকে লড়াই করার জন্য দরবার করছেন। এই দলবদলের প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেন— “ভোট এলেই এক দলের কর্মী-নেতাদের অন্য দলে যাওয়াটা বাংলায় একটা ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গেছে। এটা রাজনীতিতে বরাবর চলে এসেছে এবং আগামী দিনেও চলবে। তবে মানুষ নিজেদের বিচারবুদ্ধি দিয়েই সঠিক রায় দেবে।” তৃণমূলের এই কাউন্সিলরদের দলে নেওয়ার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একই সাথে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য— “বাংলার রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।”

সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রশ্নটি ছিল সজল ঘোষের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থিতা নিয়ে। সজল ঘোষকে কি মেয়র মুখ করেই ভোট ময়দানে নামছে বিজেপি? এই প্রশ্নে কোনো রাখঢাক না রেখেই দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন বিজেপির মৌলিক দলীয় শৃঙ্খলার কথা। তিনি বলেন— “আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টিতে কোনো নির্বাচনে আগেভাগে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হিসেবে প্রজেক্ট করার কোনো রেওয়াজ নেই। দল মেধা, জনসংযোগ এবং জয়ের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে যোগ্য প্রার্থীদের টিকিট দেবে। ভোটের পর বিজয়ী কাউন্সিলরদের মধ্য থেকেই গণতান্ত্রিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নেতা তথা মেয়র নির্বাচন করবেন।”

শাসকদলের বৈঠকের ব্যস্ততা এবং বিরোধী শিবিরের জোট বাঁধার তৎপরতা— পুরভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার সাথে সাথেই দিলীপ ঘোষের এই স্পষ্ট অবস্থান বাংলার পৌর রাজনীতির ময়দানে যে নতুন উত্তাপ এনে দিল, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *