ভারতে দারিদ্র্য কমার হার নিয়ে সামনে এল বড় তথ্য। বিশ্বব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমা পেরিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৫০ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের এই হিসাব সামনে আসতেই দেশের অর্থনীতি এবং দারিদ্র্য কমার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রিপোর্টে ২০২১ সালের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ভারতের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সালে ভারতে প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলেন। ২০২৩ সালে সেই হার নেমে হয়েছে ১৬.১ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকেরও বেশি সময়ে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।
শুধু সাধারণ দারিদ্র্য নয়, অতি দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১২ বছরে ভারতে অতি দরিদ্র মানুষের হার ২৭.১ শতাংশ থেকে কমে ২.৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের সংখ্যাতেও বড় পতন দেখা গিয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের হিসাবে, প্রতিদিনের আয় প্রায় ৪০০ টাকা বা তার বেশি হলে সেই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট ওই দারিদ্র্যসীমার হিসাবে দরিদ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে না। একইভাবে, দৈনিক আয় ২৮৫ টাকা বা তার বেশি হলে অতি দরিদ্রের তালিকাতেও তাঁকে রাখা হচ্ছে না। এই নির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতেই দারিদ্র্যের হার কমার হিসাব করা হয়েছে।
তবে গোটা দেশের ছবিটা এক নয়। গ্রাম ও শহরের মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। রিপোর্টের হিসাবে, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৯.৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই হার ৮ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য কমলেও গ্রামীণ ভারতের ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি।
দারিদ্র্য কমার পেছনে সরকারি প্রকল্পের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। সমাজের পিছিয়ে থাকা এবং কম আয়ের মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পৌঁছনোর ফলে তাঁদের আয় ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে বলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তবে এই তথ্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নতি হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সেই রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বিশ্বব্যাঙ্কের এই হিসাব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে দারিদ্র্যের হার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে গ্রামীণ দারিদ্র্য এবং আয়বৈষম্যের মতো বিষয় এখনও দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী দারিদ্র্য কমার এই ছবি নিঃসন্দেহে ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান এবং আয়বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গিয়েছে—তাই দারিদ্র্য কমার এই অগ্রগতি আগামী দিনে কতটা স্থায়ী হয় এবং আরও কত মানুষ এর সুফল পান, নজর থাকবে সেদিকেই।