রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগের নথি এবার খতিয়ে দেখার উদ্যোগ

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার।
নবান্ন সূত্রে খবর, বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে কতজন চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী কাজ করছেন, তাঁদের কীভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। শুধু মৌখিকভাবে তথ্য জানালেই হবে না। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রফর্মা বা ছক পূরণ করে যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে।আর এই তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

এই গোটা প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে নজরে এসেছে রাজ্যের সেচ দপ্তর। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি সরকারি নির্দেশিকার ভিত্তিতে সেচ দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে ওই নির্দেশিকার ৯, ১১ এবং ১৪ নম্বর ধারায় যে নিয়ম ও বিধানের কথা বলা হয়েছিল, নিয়োগের ক্ষেত্রে সেগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটাই যাচাইয়ের অন্যতম বিষয়।

রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। স্কুলশিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া একাধিক ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই বিতর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও যদি নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় কার? কোন দপ্তরে কতজন কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন? তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অল বেঙ্গল কন্ট্রাকচুয়াল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনও।
সংগঠনের মুখ্য পরামর্শদাতা মনোজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁরাও চান চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তা প্রকাশ্যে আসুক। তবে একইসঙ্গে তাঁদের আরও একটি দাবি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করে আসা কর্মীদের স্থায়ী করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *