সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার কি আধার কার্ডের গুরুত্ব কমতে চলেছে? উপভোক্তাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য আধার নম্বরের পরিবর্তে ভোটার আইডি বা EPIC নম্বর ব্যবহারের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং, যিনি লাল্লান সিং নামেও পরিচিত। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনই আধার কার্ডের বদলে ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক হচ্ছে, এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি।
সম্প্রতি পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত পিপলস প্ল্যান ক্যাম্পেইন ২০২৬-২৭-এর একটি জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পঞ্চায়েতি রাজ, মৎস্য, পশুপালন এবং দুগ্ধশিল্প সংক্রান্ত দপ্তরের দায়িত্বে থাকা লাল্লান সিং সেখানেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাই এবং আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে নিজের মতামত জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে আধার নম্বরের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ভোটার আইডি নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁর দাবি, বর্তমানে নকল আধার কার্ড তৈরির ঘটনা বেড়েছে। এমনকী অল্প সময়ের মধ্যেই ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই কারণেই সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
তবে এই মন্তব্যের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কি আগামী দিনে সমস্ত সরকারি প্রকল্পে আধারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে? আপাতত তেমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। মন্ত্রীর বক্তব্যকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কোনও নতুন নিয়ম কার্যকর করতে হলে তার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঘোষণা জরুরি।
বর্তমানে একাধিক কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়। যেমন পিএম-কিষাণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা কর্মসূচি এবং বিধবা, বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী পেনশনের মতো প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার সংযুক্তির নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও পশুপালন ও দুগ্ধশিল্প দপ্তরের অধীনে জাতীয় প্রাণিসম্পদ মিশনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সুবিধা পেতে বৈধ আধার নম্বর থাকা অথবা আধার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই ধরনের প্রকল্পে এখনই আধারের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রীর বক্তব্যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, কর্মদক্ষতা অনুদান পেতে হলে পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের উৎস থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ শুধু সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর না করে স্থানীয়ভাবে আয় বাড়ানোর ব্যবস্থাও করতে হবে।
সব মিলিয়ে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে নতুন ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে। তবে সাধারণ উপভোক্তাদের এখনই আধার কার্ডের বদলে ভোটার আইডি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নতুন কোনও নিয়ম চালু হলে কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতেই তা স্পষ্ট হবে। তাই আপাতত পুরনো নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় নথি ব্যবহার করার পরামর্শ থাকছে।