অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে যুবশক্তি সবেতেই বাদ পড়েছে নাম!এবার বাদ পড়া উপভোক্তাদের জন্য চলে এলো সুখবর!

সরকারি প্রকল্পের সুবিধার জন্য আর ব্লকে ব্লকে বা সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে চক্কর কাটার দিন শেষ! সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং বঞ্চিত মানুষদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনতে ফের এক মেগা উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুম শেষ হতেই ফের রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘সেবা সেতু অভিযান’ বা জনকল্যাণ শিবির। বিশেষ করে যাঁরা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কিংবা যুবশক্তির মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি, অথবা যাঁদের আগের আবেদন নথির জটিলতায় আটকে রয়েছে— তাঁদের জন্য এই ৩ দিনের ক্যাম্প হতে চলেছে এক বিরাট সুযোগ।

মূলত রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হয় এই সেবা সেতু ক্যাম্প। এই শিবিরে উপভোক্তারা নতুন করে আবেদনের পাশাপাশি পাচ্ছেন একাধিক প্রশাসনিক পরিষেবা। যেমন— আগে জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন, আটকে থাকা আবেদনের স্ট্যাটাস যাচাই, এবং প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থাৎ আধার নম্বরের সাথে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিংয়ের বিশেষ সহায়তা। এছাড়াও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি জনিত কোনো জটিলতা থাকলে সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই তা সমাধানের পথ খুলে যাচ্ছে।

কারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন এই শিবির থেকে? যে সমস্ত মহিলারা এখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম তুলতে পারেননি, বয়স্ক নাগরিক যাঁরা বার্ধক্য ভাতার আবেদন করতে চান, বিধবা ভাতা ও দিব্যাঙ্গ ভাতার জন্য যোগ্য ব্যক্তিরা এই শিবিরে যেতে পারবেন। পাশাপাশি যে কৃষকরা এখনও পিএম কিষান সম্মান নিধির সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং ছাত্রছাত্রী ও যুবক-যুবতীরা যাঁরা শিক্ষাবৃত্তি, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা যুবশক্তির মতো প্রকল্পে যুক্ত হতে চান— তাঁদের প্রত্যেকের জন্যই এই ক্যাম্প এক বড় সমাধানমঞ্চ।

কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মিলবে পরিষেবা? সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বৃদ্ধ ও বিধবা ভাতা, বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা, পিএম কিষান সম্মান নিধি ছাড়াও আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্প, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা এবং অসংগঠিত শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য এক ছাদের নিচেই আবেদন নেওয়া হবে।

তবে শিবিরে যাওয়ার আগে উপভোক্তাদের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবেদনকারীর পরিচয়পত্র, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট জেরক্স কপি, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত সচল মোবাইল নম্বর সাথে রাখতে হবে। জাতিগত শংসাপত্র থাকলে তার প্রতিলিপি, ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট বা সার্টিফিকেট এবং কৃষকদের জন্য জমির সাম্প্রতিক পর্চা বা খতিয়ান সাথে রাখলে কাজ অনেকটাই দ্রুত মিটবে।

কবে এবং কোথায় বসছে এই মেগা সেবা সেতু ক্যাম্প? এর আগে গত অক্টোবর মাসের ২ থেকে ৪ তারিখ টানা তিন দিন রাজ্যজুড়ে সফলভাবে এই ক্যাম্পের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের বিপুল সাড়া পাওয়ার পর এবার নবান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি নভেম্বর মাসের শেষ অথবা ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে ফের টানা তিন দিন ধরে এই শিবির বসতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এবং পুরসভার ওয়ার্ড স্তরে এই ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি এলাকার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও চূড়ান্ত দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই স্থানীয় প্রশাসনের তরফে মাইকিং ও নোটিসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য প্রাপকের কাছে কোনো কাটমানি বা জটিলতা ছাড়াই সরাসরি পৌঁছয়— বদলের বাংলায় এই সেবা সেতু ক্যাম্প সেই স্বচ্ছ প্রশাসনের দিকেই এক বড় পদক্ষেপ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *