Trinamool Suffers Another Setback on the Eve.

ভোটের আগে ভাঙন তৃণমূল শিবিরে। তৃণমূল মন্ত্রীর ভাইপো যোগ দিলেন বিজেপিতে।

দুয়ারে ভোট! আর তার আগেই যে একাধিক দল বদলের ঘটনা চোখে পড়বে, তা তো স্বাভাবিক। যদিও ইতিমধ্যেই বহু হেভিওয়েট নেতা থেকে সাধারণ মানুষের দল বদলের খবর সামনে এসেছে। তাতে কোথাও ম্যান পাওয়ার বেড়েছে তৃণমূল শিবিরের, তো কোথাও আবার শক্তি বাড়তে দেখা গিয়েছে পদ্ম দলের। আর এবার ফের একবার ঘাস-ফুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি-তে যোগদান করতে দেখা গেল তৃণমূলের দাপুটে উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার প্রার্থী উদয়ন গুহ-র ভাইপো জয় গুহ-কে। তিনি অবশ্য ছাত্র জীবনে বামপন্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে শাসক দলে যোগ দেন।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শনিবার বিজেপি জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে বিজেপি-তে নাম লেখান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ-র ভাইপো জয় গুহ। তার এই যোগদানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়-সহ জেলার একাধিক প্রথম সারির নেতৃত্বরা। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে জয় গুহ বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকে বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তবে, পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু সেই দলের উন্নয়ন মানেই কাটমানি। তাই তৃণমূল ছেড়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজত্বকালে এই বাংলার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাই বাংলার আগের গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিজেপিকে-ই দরকার বলে মত প্রকাশ করেন জয় গুহ।

অন্যদিকে, তার এই যোগদান প্রসঙ্গে বিজেপি-র জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, মন্ত্রী উদয়ন গুহ-র ভাইপো আজ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। তিনি আসলে ওই দলের উপরে বিতশ্রদ্ধ হয়েই দল ছেড়েছেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে, দিনহাটার মানুষ কত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। আর সে কারণেই প্রতিদিন দলে দলে মানুষ বিজেপি-তে যোগদান করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ভোটের আগেই ‘হেভিওয়েট’ তৃণমূল মন্ত্রীর ভাইপো-র এহেন দলবদলকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে দিনহাটার রাজনৈতিক মহল।

ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ঘিরে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এও সত্যি যে, খোদ তৃণমূল মন্ত্রীর পরিবারেরই কেউ যখন বিরোধী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন তখন স্বাভাবিকভাবেই শাসক দল-কে বেজায় অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটের ঠিক কয়েক দিন আগেই এই দলবদল কিন্তু দিনহাটার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। না, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনা শাসক দলে ও মন্ত্রীর প্রতিপত্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে আর সেই প্রভাবের করে ভোটবাক্সের ফলাফল কি হয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *