Name dropped from the voter list? Now, strict restrictions on government benefits—including the Annapurna Bhandar scheme!

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ সরকারি সুবিধায় বড় কড়াকড়ি!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “যিনি এই দেশের নাগরিক নন, তিনি সরকারি সুবিধা পাবেন না।”

 

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত ভোটার, অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তি বা একই নামে একাধিক নথি থাকার মতো বিভিন্ন কারণে বহু নাম বাদ পড়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু প্রকৃত ভুয়ো ভোটার নয়, সাধারণ বহু মানুষের নামও ভুলবশত কেটে গিয়েছে। বিশেষ করে নামের বানানে সামান্য ভুল, ঠিকানার অমিল বা নথির সমস্যার কারণে অনেক পরিবার সমস্যায় পড়েছেন।
সব থেকে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষলজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বা তথ্যে অসংগতির কারণে বাদ পড়া নাম নিয়ে। বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন, একই পরিবারের কারও নাম তালিকায় থাকলেও অন্য সদস্যের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন কোথাও বাংলা ও ইংরেজি বানানের পার্থক্য, কোথাও আবার পুরনো ঠিকানা বা আধার-ভোটার কার্ডের তথ্য না মেলার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা বা সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেও সমস্যা হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম বেড়েছে। তাই নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রকৃত ভোটার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াকে তারা সমর্থন করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির দাবি, নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে সাধারণ গরিব মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক ভুলের বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চাপানো হচ্ছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ ভোটার তালিকা শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে নাম বাদ পড়ার ঘটনা মানুষের সামাজিক ও প্রশাসনিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ পুনর্বিবেচনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, যদি প্রকৃত ভুল হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত। কারণ একজন প্রকৃত নাগরিক যেন শুধুমাত্র নথিগত ভুলের কারণে নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *