Is a new political storm brewing on the soil ?

ঝাড়গ্রামের মাটিতে কি তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক ঝড়? এবার কি বদলাবে ভোটের অঙ্ক?

বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম জেলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। প্রচলিত দলগুলোর বাইরে এবার ময়দানে নামছে এক নতুন সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী। ইতিমধ্যেই তারা জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ফলে নির্বাচনের আগে জেলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম এবং বিনপুর এই চারটি আসনে তারা সরাসরি লড়াই করবে। প্রতিটি আসনেই স্থানীয় মুখকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। এতে করে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রার্থী তালিকায় ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে শুভাশিস কারক, গোপীবল্লভপুরে বিমল পাল, নয়াগ্রামে সুমি হেমব্রম এবং বিনপুরে নিতাই সরদারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত মুখ বলে দাবি সংগঠনের। ফলে গ্রাসরুট স্তরে কিছুটা প্রভাব তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে কতটা সাড়া মিলবে, তা সময়ই বলবে।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি কর্ণ পাল জানিয়েছেন, তারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, উন্নয়নমূলক কাজ হলেও জেলার অনেক পিছিয়ে পড়া মানুষ এখনও বঞ্চিত। এই অসন্তোষ থেকেই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। তিনি মানুষের সমর্থন নিয়েই ভোটে লড়াইয়ের কথা বলেছেন।

কর্ণ পাল আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কিন্তু তবুও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে তাদের দাবি। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই তারা নতুনভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাইছে। এই বক্তব্যে একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

সংগঠনের নির্বাচনী ইস্তেহারে একাধিক জনমুখী দাবির কথা বলা হয়েছে। রাজ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়াও কৃষকদের জন্য সার ও বীজ ন্যায্য মূল্যে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা হওয়ায় এই ইস্যু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ফলে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারের কৌশল স্পষ্ট। এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সুরক্ষা বাহিনীর এই পদক্ষেপ জেলার রাজনৈতিক লড়াইকে কিছুটা হলেও চতুর্মুখী করতে পারে। যদিও বড় দলগুলোর শক্ত ঘাঁটিতে নতুনদের জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। তবুও ভোটের অঙ্কে ছোট দলগুলিও কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *