বাংলায় এখন চলছে ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর এই আবহেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় কার আধিপত্য বিস্তার হতে চলেছে। যদিও উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের পাল্লা সর্বদা-ই ভারী। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গ? না, এক্ষেত্রে বাম আমল হোক বা কংগ্রেস আমল, এ প্রান্তে সর্বদা জোর বেশি তৃণমূল কংগ্রেসের-ই। বলা ভালো, বঙ্গের এই প্রান্তে কলকাতা-সহ বহু জেলায় তৃণমূলের শক্ত ভিত রয়েছে। ফলত, বাংলা দখল করার ক্ষেত্রে শাসক দল উত্তরবঙ্গে কিছুটা হোঁচট খেলেও, দক্ষিণবঙ্গে পদ্ম শিবির পাত্তা পাবে না। আর এও সত্যি যে, পশ্চিমবঙ্গের শাসন ভার তারই হাতে থাকে, যার দখলে দক্ষিণবঙ্গের ক্ষমতা থাকে। তাই তো কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে তৃণমূলের আধিপত্য বেশি থাকলেও, রাঢ এলাকা তাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও বিজেপি রাঢ়়বঙ্গ বা জঙ্গলমহলে এখনও তেমন শক্তপোক্ত ভিত তৈরি করতে পারেনি। তবে, তারা ২০২১ সালের সেই ভুল করতে আর রাজি নয়। তাই তো ভীষণ সাবধানে পা ফেলছে পদ্ম শিবির।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বিজেপি সংখ্যালঘু ভোটের প্রতি কোন আশা রাখতে ইচ্ছুক নয়। বরং, তারা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিকেই টার্গেট করছে। সেই সঙ্গে যে সব এলাকায় জোড়া ফুল শিবিরের খুব বেশি দাপট নেই বা ঘাঁটি শক্ত নয় সেগুলিও তাদের টার্গেট লিস্টে রয়েছে। ফলত ২৬-এর নির্বাচনে ভোট ভাগের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। জনগণনার রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সকল জেলাগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি হিন্দুদের বাস পূর্ব মেদিনীপুরে। এখানে প্রায় ৮৮% হিন্দু বাস করেন। আর সেই কারণেই এবারের নির্বাচনে বাংলার এই জেলা বিজেপির কাছে সবথেকে বড়ো হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তাছাড়া, পূর্ব মেদিনীপুরে গত ৫ বছর ধরে নিজের দাপট বজায় রেখে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যা পদ্ম শিবিরের জন্য এক রকম সোনায় সোহাগা!
এদিকে বাম আমল থেকেই কলকাতায় তৃণমূলের ঘাঁটি ভীষণ শক্ত। কিন্তু আসন্ন ভোটে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নয় বিজেপি। তাই এবার সে দলের তরফে প্রার্থী বাছাই চলছে খুবই ভেবে-চিন্তে। তবে, শুধু তৃণমূল নয়, কলকাতায় বাম এবং কংগ্রেস-ও বিজেপির প্রতিপক্ষ। আর সেই কারণে প্রার্থী থেকে প্রচার সবেতেই গেরুয়া শিবিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরের পর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু আধিপত্যের দ্বিতীয় জেলা পুরুলিয়া। এখানে প্রায় ৮৩% হিন্দু বাস করেন। এছাড়া, হুগলিতে ৮২%, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৮% ও বাঁকুড়াতে ৭৭% হিন্দু বঙ্গবাসী রয়েছেন। আর সে কারণেই এই জেলাগুলিতেও বিজেপি রীতিমত শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করছে।
না, ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু এলাকাতেও সেভাবে কোনো ভালো ফল করতে পারেনি বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সেবার গেরুয়া শিবির পেয়েছিল মাত্র ৭৭টি আসন। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৫৪টির মধ্যে ৩০টি ছিল, আর দক্ষিণবঙ্গের ২৪০টি আসনের মধ্যে তাদের দখলে ছিল ৪৭টি আসন। তবে, পদ্ম শিবিরের শক্তি কম কলকাতা, হাওড়া, হুগলির মত হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে। তাছাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া তফসিলি জাতি ও উপজাতির অধীনে থাকা এলাকাগুলিতেও বিজেপির ভিত বেশ কিছুটা নড়বড়ে। যদিও বনগাঁ-র মতুয়া অধ্যুষিত ৫টি আসনই গতবার পেয়েছিল বিজেপি। ফলত, দক্ষিণবঙ্গের লড়াই যে গেরুয়া শিবিরের জন্য বেশ কষ্টকর তা বোঝাই যাচ্ছে। তবে, এবারের নির্বাচনে কি ফল করে পদ্ম শিবির, তা তো আগামী ৪ঠা মে-ই জানা যাবে।