Mamata Didi remains silent out of fear of the Muslim vote bank.

“মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের ভয়ে চুপ মমতাদিদি”…বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা সরকারকে বিঁধলেন যোগী!

বাংলায় এখন গ্রীষ্মকালের চেয়ে ভোটের গরমের দাপট বেশি। তাই তো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হেভিওয়েট নেতাদের পায়ের ধুলো প্রায়ই পড়ছে। আর এবার বঙ্গে পা রাখলেন স্বয়ং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার দুপুরে বাঁকুড়ার এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেখানেই নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলার বর্তমান শাসক দলকে রীতিমত তুলোধোনা করতে দেখা যায় তাকে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিক দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়েও এদিন তাকে মুখ খুলতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে যোগীর প্রায় ২৫ মিনিটের ভাষণে উঠে আসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ-ও। এদিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে জনসভায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাঁকুড়ার এই জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে বিদ্ধ করে যোগী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস একসঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। এই রাজনৈতিক দলগুলি রাজ্যে সামাজিক বিভাজন তৈরি করছে, যার কারণে ধর্মীয় উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। তার বক্তব্যে, দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির মতো বড় উৎসবের সময়ে অশান্তি তৈরির অভিযোগও শোনা যায়। এদিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একতার সঙ্গে দাঁড়ানোর এখন সময় এসে গিয়েছে। আর এতে এই ধরনের রাজনীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তার মতে, বাংলার জনগণকে সচেতন হতে হবে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। তবেই বাংলাকে তার পুরনো গৌরবে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

এরপরই বাংলাদেশের দীপু দাসের প্রসঙ্গ উঠে আসে তার কথায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছু দিন আগে এক হিন্দু দলিতকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় বিজেপি তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল, আন্দোলনও করেছিল। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতাদিদি সে বিষয়ে কিছু বলেননি, চুপ ছিলেন। কারণ তার ভয় রয়েছে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক যদি তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপরই তিনি বলেন, বাংলাবাসী আর চুপ থাকবে না। এবার মমতা দিদির খেলা শেষ হবে। পাশাপাশি এদিন তিনি উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে বাংলার তুলনা করে দাবি করেন, বর্তমানে বাংলার যা পরিস্থিতি হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে আজ থেকে ৮-৯ বছর আগে এই একই পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু সেখানে সরকার বদলে ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। কারণ এখন সেখানে আইনের শাসন তৈরি হয়েছে, অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে, সেখানকার যুবকরা কাজ পাচ্ছেন। এমনকি, মাফিয়ারাজও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন যোগী।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্যে রীতিমতো সরগরমে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। তার এহেন মন্তব্যে রাগে ফুঁসে উঠেছেন জোড়াফুল শিবিরের কর্ম-কর্তারাও। তাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৪ঠা মে নিরপেক্ষ ভোটে বাংলার মানুষ এদের পত্রপাঠ বিদায় করে দেবে। তবে, বাস্তবে কারা বাংলার মসনদ থেকে বিদায় হবেন, তা তো সময়ের অপেক্ষা। এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, আজ আরও কয়েক জায়গায় জনসভা সারতে পারেন যোগী আদিত্যনাথ। তবে, তাকে দেখতে মানুষের যে হারে ভিড় উপচে পড়ছে তা কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ তৈরি করছে বাংলার শাসক শিবিরের কপালে। সেই সঙ্গে এও প্রশ্ন উঠছে যে, বাংলায় নিজের মাটি শক্ত করতে কি যথেষ্ট নন, মোদী-শাহ-শুভেন্দুরা? সে কারণেই রাজ্যে আনতে হচ্ছে যোগী আদিত্যনাথের মতো দাপটশালী নেতাদের? উত্তরটা যদিও সময় দেবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *