ভোট দুয়ারে চলে এসেছে। আর এই আবহে বাংলায় পা রাখছেন একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। গত রবিবার বাংলায় এসেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যে রয়েছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। যদিও তিনি বিজেপির ইশতেহার প্রকাশ করতেই এবার বঙ্গে এসেছিলেন। আর এদিন কেষ্ট-র বীরভূমে দাঁড়িয়েই ‘তৃণমূলের গুন্ডাদের’ লাগামছাড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে সপ্তাহের শুরুর দিনই তিনি ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও মুখ খোলেন। সোমবার দুপুরে বীরভূমের বোলপুরে পল্লিমঙ্গল ক্লাবের মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ-কে বলতে শোনা যায়, মেশিনে আমজনতারা যেন পদ্মের চিহ্ন খুঁজে নেন, তাহলে তারাও তৃণমূলের গুন্ডাদের খুঁজে বের করবে। আর সে কারণেই ২৩শে এপ্রিল থেকে তৃণমূলের গুন্ডাদের ঘরে বসে থাকার নির্দেশ দিলেন তিনি। নয়তো ৫ই মে তাদের সকলকে খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে বলেও হুশিয়ারি দিতে শোনা যায় শাহ-কে।
এদিনের জনসভায় বক্তৃতা রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ২০২১ সালের ভোটের পর বীরভূমে বিজেপি-র কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। কিন্তু এবার মমতার সরকারকে টাটা-বাই করে দেওয়ার পালা। সেই সঙ্গে কাটমানি, সিন্ডিকেটওয়ালা-দের উল্টো ঝুলিয়ে বিজেপি তাদের সোজা করার কাজ করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বাংলায় ৪ঠা মে-র পর ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হবে। আর তারপর থেকেই রাজ্যে বিকাশের নতুন যুগ শুরু হবে। এবার সময় এসেছে ভয়ের জবাব ভরসায় দেওয়ার। তিনি বীরভূমবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সকলে যেন নির্ভয়ে মেশিনে পদ্মের চিহ্ন খুঁজে নেন। বাকি, তৃণমূলের গুন্ডাদের পদ্ম শিবিরের কর্মীরা খুঁজে নেবেন। এদিনের সভায় দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দাগতেও শোনা যায় শাহ-কে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোথায় গেল ‘জলজীবন মিশন’-এর কোটি কোটি টাকা? ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি নিয়ে কে দুর্নীতি করেছে? এরপর নিজের এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিজেই দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা এই সব টাকা খেয়ে নিয়েছে। তৃণমূলের সময় শুধু দূর্নীতি হয়েছে।’
এখানেই নিজের মন্তব্য শেষ না করে তিনি দাবি তোলেন, তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে পারে না। আর সে কারণেই শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মোদী-র প্রশংসা করে বলেন, শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন মোদীজি। এমনকি, বাংলা ভাষাকে তিনি শাস্ত্রীয় ভাষা বানানোর কাজ করেছেন বলেও এদিন সকলকে জানান শাহ। এর পাশাপাশি মহিলা সুরক্ষা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন তিনি। শাহের অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। কিন্তু তা সত্বেও তিনি তার রাজ্যের মা-বোনেদের সুরক্ষা দিতে পারেন না। সে কারণেই তিনি জিজ্ঞাসা করেন, রাতে কেউ কেন বাইরে বেরিয়েছেন। এরপর তিনি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে এমন বাংলা তৈরি হবে, যেখানে রাত ১টাতেও মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবে। তারা ক্ষমতায় থাকলে কোনও আরজি কর বা দুর্গাপুরের ঘটনা ঘটবে না। বরং, সবক্ষেত্রেই মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে।
না, তার এই জনসভার বক্তৃতা থেকে বাদ পড়েনি অনুপ্রবেশ ইস্যু। তিনি বলেন, মমতার সরকার তৃণমূল অনুপ্রবেশ কখনোই বন্ধ করতে পারবে না। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এলে ৮ই মে-র পর থেকেই খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বার করে দেওয়ার মিশন চালু হবে। সেই সঙ্গে তিনি এও জানান যে, তারা ক্ষমতায় এলে UCC চালু করা হবে। এতে যারা চার বার বিয়ে করেন, তা বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি রাজ্যের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, এখন বাংলায় বালি, সিমেন্ট কিনতেও যে সিন্ডিকেট দিতে হয়। বিজেপি এলে তা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, তার এদিনের বক্তৃতায় এই বিষয় টি স্পষ্ট যে, বীরভুমবাসীদের ভোটের দিন পদ্মফুলে ছাপ দিয়ে তৃণমূলের সরকারকে উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে, তার এই আর্জির মান কতখানি রাখেন বীরভূমবাসী সে তো ৪ঠা মে জানা যাবে।