Say 'Jai Shri Ram' and get a ₹500 discount on medical expenses.

‘জয় শ্রীরাম’ বললেই চিকিৎসার খরচে মিলবে ৫০০ টাকা ছাড়! চিকিৎসকের অভিনব উদ্যোগ নিয়ে শোরগোল নেটপাড়ায়!

ভোট যে দুয়ারে চলে এসেছে, তা প্রার্থীদের আনা-গোনা আর চারিপাশের পরিবেশ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। তবে, এবার ভোটের প্রভাব পড়লো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে-ও। না, শুধু ভোটের প্রভাব নয়, একেবারে চৈত্র সেলের অফার চলছে খোদ ডাক্তারের ক্লিনিকে। এই অফারে রোগীদের শুধু ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে হবে, তাহলেই ৫০০ টাকা ছাড় দেবেন চিকিৎসক। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও ভোটের বাজারে এমনই একটি বিষয় ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সম্প্রতি কলকাতার নামী কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর পিকে হাজরা-র একটি পোস্টার ঘিরে এমনই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি থেকে চিকিৎসকমহল।

নেটমাধ্যমে সম্প্রতি একটি পোস্টার ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া উত্তরীয় ও মাথায় টুপি পরে রয়েছেন কলকাতার বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পি.কে. হাজরা। আর সেই পোস্টারে লেখা রয়েছে, যে সমস্ত রোগী তার চেম্বারে এসে ‘জয় শ্রী রাম’ বলবেন, তারা ডাক্তারবাবুর কনসালটেশন ফি তথা পরামর্শ মূল্যে বিশেষ ছাড় পাবেন। এমনকি, রিসেপশনে ওই ছবি দেখালে ৫০০ টাকা ছাড় মিলবে বলেও জানানো হয়েছে। সেই সাথে অনলাইন বুকিংয়ের-ও ব্যবস্থা করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট পাওয়ার উপযোগী কিউআর কোড স্ক্যানিং করতে হবে। তবে, বর্তমানে তারই পোস্টার ঘিরে কড়া সমালোচনা শুরু হওয়ার পাশাপাশি তাকে ‘হিপোক্রেটিক ওথ’-এর কথাও মনে করিয়েছেন সতীর্থরা।

এ কথা সত্যি যে, ভোটের বাজারে সকলেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ পেশ করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু একজন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা তার চেম্বারে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ছাড় , তাও আবার কোনও নির্দিষ্ট স্লোগানের ওপর নির্ভর করে—এ বিষয়টি এখন বড়ো প্রশ্নের সম্মুখীন করছে। কারণ চিকিৎসকদের নীতি বৈষম্যহীন সেবা। সেখানে জন্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্লোগানকে ব্যবহার করে ছাড়ের শর্ত দেওয়া চিকিৎসকের পেশার সততা ও নিরপেক্ষতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে বলেই মনে করছেন নানা মহলের অধিকাংশ মানুষ। তার ওই পোস্ট ভাইরাল হতেই চিকিৎসক মহলে বিতর্ক বেড়েছে, যার জেরে কিছুটা হলেও চাপে পড়েছেন শহরের নামকরা ওই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট। এদিকে তার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে IMA-এর রাজ্য শাখার তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেখানে তাকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে ডিসকাউন্ট প্রদানকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি স্রেফ সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে চান। তার এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে জয় শ্রীরাম বলতেই হবে। তবে, যারা বলবেন তাদের জন্য এই ছাড় উপলব্ধ। তিনি আরও জানান যে, বিজেপি-র জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি এমন কাজ করেছেন। কিন্তু তার এই ঘোষণার পর থেকেই ফেসবুকে তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি ফোনেও ধমকানো, ভয় দেখানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে IMA–এর রাজ্য সম্পাদক তথা তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন এ ঘটনা প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তার দল তৃণমূল—কেউই কখনও তাকে তার এই মহৎ পেশাকে কলুষিত করতে শেখায়নি। আর রোগীদের ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা তো নয়ই। এরপরই তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জা’ বলে দাবি করেন।

এই একই সুরে সুর মিলিয়েছেন একাধিক চিকিৎসক সংগঠনও। বামপন্থী চিকিৎসক ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছে যেমন বামপন্থী নেতারাও চিকিৎসা করান, তেমন তৃণমূল ও বিজেপির নেতারাও ভর্তি থাকেন। তাই রোগীর ক্ষেত্রে তাদের কাছে কোনও ভেদাভেদ নেই। তাদের দাবি, এমন অনেক রোগী আসেন যাদের সঙ্গে রাজ্য-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়, মতাদর্শ বিনিময় হয়, কিন্তু এভাবে কোনও নির্দিষ্ট দলীয় স্লোগান সামনে রেখে তারা ডাক্তারি করাটা একেবারেই এথিক্যাল মনে করেন না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মত, চিকিৎসা পরিষেবা আদতে এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের কোনও স্থান থাকাই উচিত নয়। কারণ রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের ভিত্তি সম্পূর্ণ আস্থা ও সমতার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা সেই আস্থার ভিতকে নড়বড়ে করে দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে, এই ঘটনায় একটা প্রশ্ন সকলের মনে উস্কে দিয়েছে! তা হল—চেম্বারের দরজায় রাজনীতির এই কাঁটাতার কি ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলকেও ভেদাভেদের রঙে রাঙিয়ে দেবে? উত্তরটা হয়তো আপাতত অজানা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *