“ভাই আমায় তোমার ঝালমুড়ি খাওয়াও!” কথাটা শুনে প্রথমে একেবারে চমকে গিয়েছিলেন বিহারের বাসিন্দা তথা ঝাড়গ্রামের ভাইরাল ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম শাউ। স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খেতে এসেছেন। চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঝাল মুড়ি বিক্রি করা এবং প্রধানমন্ত্রীর থেকে দশ টাকা পাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ভাইরাল। আর তারপর মুড়ি বিক্রেতা বিক্রম রাতারাতি সেলিব্রেটি। তার দোকান দেখতে কেউ আসছিলেন তার সঙ্গে সেলফি তুলতে। কেউ কেউ আবার বিক্রমের দোকানের ঝাল মুড়িও কিনে খাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রবল হইচই কান্ড। তবে এর মাঝেই ভাইরাল আরও একটি খবর। মোদির দেওয়া ওই দশ টাকার নোটের দাম নাকি উঠেছে এক লক্ষ 11 হাজার টাকা।
ঝাড়গ্রাম শহরের স্টেশনপাড়ায় বিক্রম কুমার সাউয়ের বাড়ি। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এই ঝালমুড়ি বিক্রেতার আদি বাড়ি বিহারে। তবে বর্তমানে কর্মসূত্রে বাংলাতেই থাকেন তিনি। বহু বছর ধরে ব্যবসা করছেন। শুরুতে ঠেলাগাড়ির দোকান ছিল। এখন স্থায়ী দোকান হয়েছে। এই দোকানেই পা পড়েছিল স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। আর তারপরেই বিক্রমের জীবন বদলে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, হরিয়ানার এক ব্যক্তি ঝাল মুড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে ওই দাম দিয়ে 10 টাকার নোটটি কিনতে চেয়েছেন!
নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, হরিয়ানার সোনিপথের এক ব্যবসায়ী রোহিত খালসা ঝাড়গ্রামের ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত থেকে পাওয়া 10 টাকার নোটের জন্য 1 লাখ 11 হাজার টাকা অফার করেন। জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি এদিন ঝালমুড়ি খেয়ে চলে যাওয়ার কিছু ঘন্টার মধ্যেই বিক্রেতা বিক্রমের সাথে যোগাযোগ করে 10 টাকার ওই নোটটি এই দামে কিনে নিতে চান রোহিত। যদিও এমন খবরের সত্যতা যাচাই করিনি আমরা। একই সাথে ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা আদৌ সেই নোটটি বিক্রি করেছেন কিনা সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য মেলেনি।
গত 20 এপ্রিল, রবিবার বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে মুড়ি পে চর্চা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন ঝাড়গ্রামের সভা শেষ করে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রোডসাইড একটি মুড়ির দোকান থেকে ঝাল মুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে নিজের হাতের ঠোঙা থেকে এলাকাবাসীকেও মুড়ি বিলি করেন তিনি। সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনায় তৈরি হয় বিতর্ক। এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে বেশ কয়েকটি পোস্ট।