None other than the nation's 'Chief Servant' himself—aboard a humble boat! Boatman Gouranga Biswas is overwhelmed with emotion after giving the Prime Minister a tour of the Ganges.

সাধারণ নৌকায় খোদ দেশের প্রধান সেবক! প্রধানমন্ত্রীকে গঙ্গা দর্শন করিয়ে আপ্লুত মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস!

ফের বাংলায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। কারণ এবার পালা দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার। শুক্রবার সে কারণেই তার দুটি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে দলের তরফে। তবে, এসবের মধ্যেই এক বিরল নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার কলকাতার গঙ্গা ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই আচমকা গৌরাঙ্গ বিশ্বাস নামের এক মাঝির নৌকাতে চেপে বসেন নমো। তিনি নিজের নৌকায় গঙ্গাবিহার করান তাকে। কিন্ত তার সেই বিস্ময় এখনও কিছুতেই কাটছে না। যদিও ভোটের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গঙ্গার বুকে ঘোরাতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়েছেন নৌকার মাঝি।

জানা গিয়েছে, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি হুগলি জেলার বলাগড়ে। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকেই নৌকা চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৪ বছর। গৌরাঙ্গ গত ১৭ বছর ধরে প্রিন্সেপ ঘাটেই নৌকা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে এমন নৌকাবিহার করানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও সেলেব্রিটি তার নৌকায় চাপলে ভালোই লাগে। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে তিনি ভ্রমণ করাতে পারবেন বা সেই সুযোগ পাবেন এমনটা কল্পনাও করেননি কখনও। সে কারণেই তিনি মোদীকে দেখে প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার কাছে পুরো বিষয়টি স্বপ্নের মতো লাগছিল। গৌরাঙ্গ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কথাতে তিনি নৌকা নিয়ে গেছিলেন। নমো নিজের ক্যামেরা দিয়ে চারিপাশের ছবি তুলছিলেন বলেও জানিয়েছেন মাঝি।

এরপর গৌরাঙ্গ জানান, প্রধানমন্ত্রী তার শুধু নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তবে, এই গোটা বিষয়ে তিনি খুব খুশি বলেই জানিয়েছেন। যদিও এই নৌকাটি গৌরাঙ্গের নিজের নয়। এই নৌকার মালিক বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ ইফতিকার আহমেদ। না, মালিকও জানতেন না তার নৌকা কেন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে, মোদীর নৌকাবিহার শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনি জানতে পারেন। আর তারপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তার। তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর গঙ্গার পাড়ে এলে তাকে একটি ছেলে জানায় যে ৭টি বোট ভাড়া লাগবে। এরপর তিনি জানতে চান কোন সেলিব্রেটি আসছেন কিনা। আর তখনই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায় তার কাছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি কি বার্তা পেয়েছেন সে বিষয়ে বলতে গিয়ে জানান, নৌকবিহার শেষে উনি সকলকে একজোট হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সকলকে ভালো থাকার বার্তা দিয়েছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতায় এসে তিনি মা গঙ্গাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে আগামী ২৯শে এপ্রিল কলকাতা, হাওড়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দফার ভোট। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝে মোদীর এমন গঙ্গা ভ্রমণ মানুষের মনে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিন নমো একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি গতকাল সন্ধ্যায় হাওড়া ব্রিজের উপর রোড শো করেছি। আর আজ সেই হাওড়া ব্রিজকেই হগলী নদী থেকে দেখলাম।’ যদিও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এমন বিচরণ নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে ঝাড়গ্রামে প্রচারের মাঝে আচমকাই কনভয় থামিয়ে রাস্তার ধারের একটি ঝালমুড়ির দোকান থেকে তিনি ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শোনা গিয়েছিল। এমনকি, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে সাজানো বলেও দাবি করেছিলেন। আর এবারের এই গঙ্গা ভ্রমণ নিয়ে কী আলোচনা হয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *