কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ে জন্য থাকছে ‘ড্রপ বক্স’ !এবার প্রার্থী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ও Gen Z-কে সরাসরি যুক্ত করছে পদ্মশিবির !

উপনির্বাচনের বিরাট জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিলোত্তমার পুরযুদ্ধের বাদ্যি বেজে গেল! কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে সমস্ত সমীকরণ ওলটপালট করে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। কোনো জোট বা সমঝোতা নয়— কলকাতা পুরসভার সম্পূর্ণ ২০৯টি ওয়ার্ডেই একক শক্তিতে একা লড়াই করবে বিজেপি! আর এই পুরযুদ্ধে কোনো গোপন লবিবাজি বা ওপরতলার সুপারিশ নয়, এক্কেবারে সাধারণ মানুষের মতামত ও মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রার্থী বেছে নিতে চালু করা হলো এক অভিনব ‘ড্রপ বক্স’ ব্যবস্থা। রবিবার মানিকতলা এবং জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক শেষে এই মেগা ব্লু-প্রিন্ট প্রকাশ্যে আনলেন পুরভোটে কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার।

মানিকতলা ও জোড়াসাঁকোর ওয়ার্ড ভিত্তিক ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পুরভোটের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানান— প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই এক কড়া এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী কার্যালয়ে বসানো হয়েছে বিশেষ ‘ড্রপ বক্স’। যেখানে আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে শুরু করেছেন। তবে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের স্পষ্ট শর্ত— কোনো দাগী বা বিতর্কিত মুখ নয়; সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আমজনতার কাছে গ্রহণযোগ্যতাই হবে টিকিট পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি।

পুরভোটের রণকৌশলে সবচেয়ে বড় চমক হলো শহরের নতুন প্রজন্ম বা ‘Gen Z’-কে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনা। সুকান্ত মজুমদার জানান— তিলোত্তমার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। যুবসমাজকে পুর প্রশাসনের মূল স্রোতে শামিল করে কলকাতার উন্নয়নকে নতুন দিশা দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। শহরের সচেতন নাগরিকদের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন— “আর গ্যালারিতে বসে খেলা দেখলে চলবে না, এবার আপনাদের সরাসরি পিচে নেমে ব্যাট ধরতে হবে। আপনার ওয়ার্ডে কেমন প্রার্থী চাইছেন, তা ড্রপ বক্সে লিখে জানান। যাঁরা কলকাতার সার্বিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, তাঁরা দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে আসুন।”

কলকাতা পুরসভাকে প্রোমোটার আর সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে সুকান্তবাবু চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন— “কলকাতা পুরসভা কোনো প্রোমোটার বা অসাধু ডেভেলপারদের অঙ্গুলিহেলনে চলবে না। পুরবোর্ড থেকে তোলাবাজি আর প্রোমোটার রাজ সমূলে উপড়ে ফেলা হবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন— বিগত ৪৯ বছর ধরে বামেদের ভুল নীতি তিলোত্তমার কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। আর বিগত শাসকদল দুর্নীতির কালিমায় গোটা শহরকে নিমজ্জিত করেছিল। কিন্তু মে মাসের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকারের বয়স মাত্র ৫ মাস; আর এই পাঁচ মাসের মধ্যেই শহরের সিন্ডিকেট রাজকে কার্যত কোণঠাসা করা হয়েছে। কোথাও কোনো দুর্নীতির অবশিষ্টাংশ থাকলে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

২০৯টি আসনে একক শক্তিতে লড়াইয়ের এই প্রত্যয়ী ঘোষণা এবং ড্রপ বক্সের মাধ্যমে আমজনতাকে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা তুলে দেওয়া প্রমাণ করে দিল— কলকাতা পুরসভা পুনরুদ্ধার করতে তৃণমূল স্তরের অংশগ্রহণ আর স্বচ্ছতাকেই নিজেদের প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে বিজেপি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *