২৬০ কোটি টাকার বিরাট উদ্যোগ, নদিয়ায় মহিলাদের ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছে প্রশাসন! স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ব্যবসায় গতি আনতেই বড় পদক্ষেপ।

মহিলাদের হাতে শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, নিজের ব্যবসাকে আরও বড় করে তোলার সুযোগ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবার বড় উদ্যোগ নিল নদিয়া জেলা প্রশাসন। ২৬০ কোটি টাকার ক্রেডিট লিঙ্কেজের কথা জানানো হয়েছে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য।

শুক্রবার কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত হয় মেগা ক্রেডিট কার্ড বিতরণ শিবির। সেখানেই এই উদ্যোগের কথা সামনে আসে। শুধু চলতি সময়ের জন্য নয়, গোটা বছরে ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই ক্রেডিট লিঙ্কেজ আসলে কীভাবে কাজে লাগবে?

প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গোষ্ঠীগুলিকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া নয়। যে মহিলারা নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন, সেই পণ্য যেন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আর সেখানেই সামনে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, বিপণন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ।

অর্থাৎ কোনও স্বনির্ভর গোষ্ঠী পণ্য তৈরি করলেই কাজ শেষ নয়। সেই পণ্য কীভাবে আরও আকর্ষণীয়ভাবে বাজারে তুলে ধরা হবে, কীভাবে তার পরিচিতি বাড়ানো হবে এবং কীভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে—এই বিষয়গুলিও ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এর পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ উৎপাদন যতই ভালো হোক, বাজার না থাকলে সেই ব্যবসা বড় করা কঠিন। তাই তৈরি পণ্যের বিক্রির পরিসর বাড়ানোর পথও তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন।

এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আর্থিক উন্নতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সরস মেলার প্রসঙ্গও। এই মেলার মাধ্যমে নদিয়ার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা কলকাতা, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ স্থানীয় স্তরে তৈরি পণ্যকে আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটা রাস্তা তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের সুযোগ পাওয়া মানেই যে ব্যবসা সফল হয়ে যাবে, তা নয়। ব্যাঙ্ক ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং ব্যবসার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে। গোষ্ঠী ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করছে এবং সেই অর্থ দিয়ে ব্যবসায় কতটা অগ্রগতি হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসায় ভালো ফল দেখাতে পারলে পরবর্তী সময়ে আরও ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ প্রথম দফার আর্থিক সহায়তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসাকে দাঁড় করানো এবং তারপর সেই ব্যবসাকে আরও বড় করার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এক্ষেত্রে মুদ্রা ঋণের মতো অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগও বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নদিয়ার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সামনে এবার শুধু ঋণ পাওয়ার সুযোগ নয়, নিজেদের তৈরি পণ্যকে আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। ২৬০ কোটি টাকার এই ক্রেডিট লিঙ্কেজ সেই উদ্যোগকে কতটা শক্ত ভিত দিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *