রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ও ক্ষমতার পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম! তবে দলবদলের পর রাজনীতিতে থিতু হওয়ার আগেই এবার মারাত্মক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে কোনঠাসা হয়ে পড়লেন ববি হাকিম। কলকাতার বুকে ঐতিহ্যবাহী ‘জোহরা বেগম ওয়াকফ এস্টেট’-এর বহুমূল্য সম্পত্তি বেআইনিভাবে জবরদখল করে ব্যবসা চালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে!
অভিযোগ উঠে এসেছে যে, প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে জবরদখল করা ওই ওয়াকফ জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছিল ‘মার্ভেল পয়েন্ট’ এবং ‘হাকিম পলিম্যাকার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের দুটি বিশাল বাণিজ্যিক সংস্থা। ঘটনা সামনে আসতেই আর কোনো ঢিলেঢালা ভাব না দেখিয়ে রাজ্য সরকার গঠন করেছে বিশেষ তদন্ত কমিটি। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং আইপিএস জয়নারায়ণের মতো হাই-প্রোফাইল কর্তাদের কাঁধে ন্যস্ত করা হয়েছে এই প্রাতিষ্ঠানিক কেলেঙ্কারির তদন্তভার।
তদন্ত নেমে প্রাথমিক নথিপত্র খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! দেখা যাচ্ছে— দুটি বিতর্কিত বাণিজ্যিক সংস্থারই অফিসিয়াল কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠাতা এবং শীর্ষ মালিক হিসেবে জ্বলজ্বল করছে ফিরহাদ হাকিমের নাম। এমনকি সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও তাঁর নাম স্পষ্ট। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই পুলিশের একটি ৩ সদস্যের বিশেষ আধিকারিক টিম নিউ আলিপুরে ববি হাকিমের ওই সংস্থা দুটিতে আচমকা রেড বা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
জমিটি আদতে কার অধীনে ছিল, কোন আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে ওয়াকফের জায়গা দখল করে এই বাণিজ্যিক কারখানা তৈরি হলো এবং এই বিশাল চক্রের পেছনে ববি হাকিম ছাড়া আর কারা কারা জড়িয়ে রয়েছে— তার সমস্ত নথিপত্র এখন স্ক্যানারে। অন্যদিকে, নিউ আলিপুরের অফিসে পুলিশি হানার ঘটনা নিয়ে আপাতত সম্পূর্ণ নিশ্চুপ প্রাক্তন মেয়র। তবে ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখলের এই মেগা স্ক্যামের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মহলের।