নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর করে মতুয়া সমাজের বহু দশকের অধরা স্বপ্নপূরণ করার পর, এবার তাঁদের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্তরণে আরও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার! রবিবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির মাটি থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য এক বিরাট ও ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি এবার এই সম্প্রদায়ের নিজস্ব উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সংস্কৃতির বিকাশে রাজ্যে দ্রুত গঠন করা হতে চলেছে এক বিশেষ ‘মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড’!
রবিবার ময়নাগুড়ি ধর্মশালায় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে এক সুবিশাল ও জমজমাট কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মতুয়া ভক্ত ও দলীয় কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মতুয়া সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
কর্মীসভার মঞ্চ থেকে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্মরণ করিয়ে দেন— একসময় মতুয়া সমাজকে কেবল রাজনৈতিক ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পূর্বতন কোনো সরকারই এই অবহেলিত, দেশভাগের শিকার হওয়া ছিন্নমূল মানুষের আসল অধিকার কিংবা নাগরিকত্বের দাবি পূরণে কার্যকর কোনো সদিচ্ছা দেখায়নি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মতুয়াদের দীর্ঘদিনের সেই প্রাণের দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিএএ আইন কার্যকর করেছে এবং তাঁদের মাথায় স্থায়ী নাগরিকত্বের আইনি ছাদ নিশ্চিত করেছে। এই ঐতিহাসিক প্রাপ্তিকে পূর্ণতা দিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিটি যোগ্য মানুষকে কালক্ষেপ না করে দ্রুত সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন সম্পন্ন করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
এরপরেই মতুয়াদের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ধামাকা ঘোষণাটি করেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি স্পষ্ট জানান— কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের যৌথ উদ্যোগে খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এক পূর্ণাঙ্গ ‘মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড’। এই বিশেষ বোর্ডের মাধ্যমে মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির গ্রামীণ রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত তীর্থস্থানগুলির আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ মতুয়া সমাজের প্রতিটি স্তরের কল্যাণমূলক কাজকে এই বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
ময়নাগুড়ির ধর্মশালা থেকে শান্তনু ঠাকুরের এই প্রত্যয়ী বার্তা উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সমগ্র মতুয়া সমাজে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। একদিকে ব্লক স্তরে সিএএ ভেরিফিকেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়ার উদ্যোগ, আর অন্যদিকে ‘মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের এই মেগা রূপরেখা স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, বর্তমান জমানায় মতুয়াদের আর পেছনের সারিতে ফেলে রাখা হবে না; বরং তাঁদের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধিকে সবার শীর্ষে রেখেই গড়ে উঠছে আগামীর নতুন বাংলা!