A new government came to power, replacing a long-standing administration.

দীর্ঘদিনের শাসন বদলে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে… আর ৯ মে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন প্রশাসনের “ফাস্ট অ্যাকশন ফেজ”

২০২৬ সালের ৪ মে বাংলার মানুষের রায়ে বঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠেছিল। বঙ্গে ২০২৬ সালের পরিবর্তন সরকারের প্রথম ১ মাস পূর্ণ হলো। এই ৩০ দিনেই বাংলা দেখল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের একাধিক বড় ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির ক্ষমতা দখল পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড়। টানা ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার পর এই ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কারণ, দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী হলো, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই আসীন একই শাসকদল।

এই এক মাসে বিজেপি সরকারের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল, অন্নপূর্ণা যোজনা। তৃণমূল সরকার লক্ষীর ভান্ডার দেড় হাজার টাকা করে দিত মাসে। সেই লক্ষ্মীর ভান্ডার ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে রূপ নিচ্ছে বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনায়। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ২৮ লক্ষের বেশি মহিলা প্রথম ধাপে এই প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ করে পেতে শুরু করেছেন। যদিও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এখনো পর্যন্ত নানান ধোঁয়াশা রয়েছে মানুষের মনে। নতুন সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ আয়ুষ্মান ভারত বাস্তবায়ন।

১০০ দিনের কাজ ও কর্মসংস্থান: বকেয়া এবং নতুন প্রকল্প মিলিয়ে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ ফের চালু করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি শূন্যপদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য বদলি প্রক্রিয়া দ্রুত করার নীতিগত উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দুর্নীতি রোধ ও কাজের গতি আনতে বিভিন্ন দপ্তরে শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় কৃষকদের জন্য কিষান ক্রেডিট কার্ড ও পিএম-কিষান যোজনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং খরিফ মরশুমের ফসল সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিজেপি সরকারের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো মহিলাদের ফ্রি বাস রাইড। পয়লা জুন থেকে সমস্ত সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা। অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও প্রথম মাসেই সুখবর দিয়েছে নতুন সরকার। বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৫ করা হয়েছে। আর প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন ৩৫ জন মন্ত্রী। সব মিলিয়ে রাজ্যে পূর্ণ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী এখন চল্লিশ জন। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে দুর্নীতি এবং ভুয়া উপভোক্তাদের ধরতে গঠন করা হয়েছে সিট। মানুষের কথা সরাসরি শুনতে সরকার চালু করেছে জনতার দরবার। অন্যদিকে আরজি করের মামলায় নতুন করে শুরু হয়েছে তদন্ত। টলি পাড়াতে এসেছে বড় পরিবর্তন। তবে সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা প্রমাণ করার জন্য একমাস সময় খুবই কম। আগামী দিনে নিজেদের এই ইমেজ কতটা ধরে রাখতে পারে বিজেপি সরকার সেটাই এখন দেখার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *