A New Political Message Surrounds Service Pledges in Bhabanipur

ভবানীপুরে পরিষেবা প্রতিশ্রুতি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বার্তা… ভোটের আগে অধিকারী শিবিরের কৌশল নিয়ে জল্পনা

আর সপ্তাহখানেক পরই ভোট উৎসবে মাতবে বাংলা। তবে, তার আগেই দিকে দিকে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। এবারের ভোটে অবশ্য সকলেরই নজর রয়েছে হটস্পট ভবানীপুরের দিকে। কারণ কলকাতার এই কেন্দ্রে আবারও দেখা মিলতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আসলে এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও কলকাতার ভবানীপুর—এই দুই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে ছেলের এই লড়াইয়ের দিনে শক্ত খুঁটির মতো ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই এক সময়ের সবচেয়ে বড়ো ভরসার পাত্র শিশির অধিকারী। তিনিও এক সময় তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক ও সাংসদ হয়েছেন। এমনকি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই মমতা তার চরম শত্রু। আর ঠিক সে কারণেই ২৬-এর নির্বাচনে এক সময়ের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচারের ময়দানে নেমেছেন তিনি।

না, তিনি শুধু প্রচার ময়দানেই নামেননি। সেই সঙ্গে এমন কিছু বক্তব্য সাধারণ মানুষের সামনে রেখেছেন যাতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে শাসক দলের। যদিও তিনি নিজে রাজনৈতিক জীবন থেকে অনেক আগেই অবসর নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এখন ছেলের জন্য আবারও তার দেখা মিলছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশির অধিকারী জানান, আগামী ২৩শে এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটলেই তিনি তার পরের দিন তথা ২৪শে এপ্রিল থেকে ভবানীপুরের ভোট প্রচারে পুরোপুরিভাবে মনোনিবেশ করবেন। সেই সঙ্গে ভোটে জেতার পরবর্তী ভবিষ্যত নিয়েও পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন তিনি। এদিন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, ভবানীপুরের মানুষ যদি শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করেন তাহলে তিনি ওই এলাকাতে বাড়ি কিনে একটি বিধায়ক কার্যালয় গড়ে তুলে নিজেই সেখানকার মানুষদের পরিষেবা প্রদান করবেন।

এর পাশাপাশি শিশির অধিকারী মনে করিয়ে দেন, মানুষের পাশে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে থেকেছে। আর এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ও তার পুত্র একযোগে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, তার আরেক পুত্র দিব্যেন্দু অধিকারীও এবারের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িয়েছেন এগরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। জানলে অবাক হবেন, এক সময় এই এগরা কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন শিশির অধিকারী। এরপর কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন এবং বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। তবে, নিজে বর্তমানে রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নিয়ে নিলেও ভবানীপুরে জয় নিশ্চিত করতে এখন বেশ উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন।

বলা বাহুল্য, ৯০-এর দোরগোড়ায় বয়স হওয়া সত্বেও শিশির অধিকারীর প্রচারের তেজ এখনও বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিচ্ছে। তিনি প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন! সেরে ফেলছেন ছোট-ছোট সভা থেকে শুরু করে ঘরোয়া বৈঠক। গোটা রাজ্য জুড়েই ছুটে বেড়াচ্ছেন এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আর এই সকল কার্যকলাপে ভর করেই অধিকারী পরিবারের দাবি, মেদিনীপুরের ১৬টি আসন সঙ্গে ভবানীপুরের মাটিতেও পদ্ম এবার ফুটবে-ই! তবে, অধিকারী পরিবারের এই বিশ্বাস আর সাধারণ মানুষকে দেওয়া ‘বাড়ি কেনা’র প্রতিশ্রুতি কলকাতার ভবানীপুরের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা সময়ে বোঝা যাবে। সেই সঙ্গে মিলবে আরও এক প্রশ্নের উত্তর! সত্যিই কি মেদিনীপুরের দাপট এবার দক্ষিণ কলকাতার অলিতে-গলিতেও দেখা যাবে? অপেক্ষা এখন ৪ঠা মে-র!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *