সোশ্যাল মিডিয়ার বিকৃত প্রচার এবং রাজনৈতিক মঞ্চের অযাচিত বিতর্ককে কড়া হাতে দমন করে এবার দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে তাঁর প্রাপ্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নবান্ন! এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কার্যালয়, প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি রাখা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হলো। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শক বা ডিআই-দের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— কোনো ঢিলেমি নয়, সরকারি অনুমোদিত নেতাজির প্রতিকৃতি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্থাপন করতেই হবে। শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য প্রশাসন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে— বিগত কয়েক মাস ধরে সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য ও আপত্তিকর ছবি বিকৃতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। এমনকি খোদ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজও নেতাজিকে নিয়ে চরম অসৌজন্যমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন— দলমত নির্বিশেষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনো ধরণের কুমন্তব্য বা অসম্মানজনক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না; এমন অভিযোগ সামনে এলেই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় জামিন অযোগ্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সেই হুঁশিয়ারির রেশ ধরেই এবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে নেতাজির আদর্শ ও মর্যাদা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে এই প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হলো।
শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ নোটিফিকেশনে ঠিক কী বলা হয়েছে? শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে— নির্দেশিকায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যেনতেন প্রকারে যেকোনো ছবি দেওয়ালে টাঙিয়ে দিলেই চলবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর একটি নির্দিষ্ট ছবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। সেই ছবিতে নেতাজিকে দেখা যাচ্ছে চিরাচরিত বাঙালি পোশাকে— ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায়। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, স্কুল ও দপ্তরগুলিকে কলকাতার আলিপুরে অবস্থিত ‘উত্তীর্ণ’ প্রাঙ্গণ থেকে সেই অনুমোদিত ছবি সংগ্রহ করতে হবে।
শুধু তাই নয়, নির্দেশিকায় আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে— শিক্ষা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত অধস্তন কার্যালয়গুলিকে তাদের নিজ নিজ কার্যালয় বা স্কুল প্রাঙ্গণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশিষ্ট এবং দৃশ্যমান স্থানে এই ছবি যথাযথ মর্যাদার সাথে প্রদর্শন করতে হবে। জাতীয়তাবাদী আবেগ ও নেতাজির ঐতিহাসিক অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের দাবি।
দেশনায়কের স্মৃতিকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় ইতি টেনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নেতাজির উপস্থিতিকে বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত বদলের বাংলার শাসনব্যবস্থায় যে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায় সংযোজন করল, তা বলাই বাহুল্য!
