২৬-এর নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লেখা হতে চলেছে! কারণ নির্বাচনের প্রথম দফায় যা ঘটল, তা শুধু অবিশ্বাস্য নয়, এক নীরব বিপ্লব! ভাবছেন নিশ্চয় কেন বলছি এমন? আসলে প্রথম দফাতেই রেকর্ড ৯২.৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৯৩% মানুষ এবার বুথমুখী হয়েছেন। এর আগে ২০১১ সালে যখন পরিবর্তন এসেছিল, তখন ৮৪% ভোট পড়েছিল। আজ সেই রেকর্ডও ধুলোয় মিশে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার, বীরভূম থেকে মেদিনীপুর—বাংলার মাটি গর্জে উঠেছে। কিন্তু এই উপচে পড়া ভিড় কিসের ইঙ্গিত? শুধু ভোটদান, নাকি অন্য কিছু? বিশেষজ্ঞ মহলের মত, এই ঘটনা হলো পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে—অনেক হয়েছে, আর নয়!
যদিও বর্তমানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অঙ্ক কষতে ব্যস্ত। কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষ অনেক আগেই অঙ্ক কষে ফেলেছেন। নাহলে ৯৩% মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন? এর কারণ অবশ্য একটাই—মানুষ যখন শাসকের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে, তখনই এমন রেকর্ড ভাঙা ভোট পড়ে। আর এই ভোট পড়েছে কাটমানির বিরুদ্ধে, সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে। এদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির দিকে কোচবিহারে ৯৫.৮১%, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৩৯% ভোট পড়েছে। তাছাড়া, এগুলি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। ফলে সেখানে এই বিপুল পরিমাণ ভোটদান পরিষ্কার বলে দিচ্ছে, মানুষ এখন ‘পরিবর্তন’ চায়। পাশাপাশি গ্রামে-গঞ্জে গেলেও এখন একটাই কথা শোনা যাচ্ছে, মোদীজির ডবল ইঞ্জিন সরকারই পারে বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে। অর্থাৎ, এবারের লড়াই আর নেতার লড়াই নেই, এ লড়াই এখন আমজনতার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি, যে বাংলার বুকে মহিলারা আজ অসুরক্ষিত বোধ করছিলেন, সেই বাংলার নারীরা আজ জেগে উঠেছেন। তারা আর কোনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে ভুলছেন না। বরং, প্রথম দফায় প্রায় পৌনে ২ কোটি মহিলা ভোটার বুথে গিয়েছেন। বর্তমানে মোদীজির নেতৃত্বে ভারতের মহিলারা এখন সুরক্ষিত ও স্বাবলম্বী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে কয়েকশ টাকার ললিপপ দিয়ে যে আর বাংলার শিক্ষিত বোনেদের ভোলানো যাবে না, সেটা এই ৯৩% ভোটেই প্রমাণিত। ফলত বলাই যায়, বাংলার নারী শক্তি দুর্নীতির অসুর বিনাশ করতে রাস্তায় নেমে পড়েছে। আর মহিলারা যখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন বোঝাই যে শাসকের সিংহাসন টলমল করছে। সেই মোতাবেক রিপোর্ট বলছে, আলিপুরদুয়ারে ৯২.৫২%, বাঁকুড়ায় ৯১.৫৬%, বীরভূমে ৯৪.৪৫%, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৩৯%, দার্জিলিঙে ৮৮%, জলপাইগুড়িতে ৯৪.৫৯%, ঝাড়গ্রামে ৯২. ১৪%, কালিম্পঙে ৮৩.০৬%, মালদহে ৯৪.৩২%, মুর্শিদাবাদে ৯৩.৫৫%, পশ্চিম বর্ধমানে ৯০.৩১%, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯২.১৬%, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯১.০৯%, পুরুলিয়ায় ৯০.৭১% এবং উত্তর দিনাজপুরে ৯৪.১০% ভোট পড়েছে।
এদিকে এই প্রথম দফার পরিসংখ্যান সামনে আসার পর থেকেই শাসক শিবিরের কপালে ভাঁজ পড়েছে। কারণ তারা জানেন, মানুষ যখন ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দেয়, তখন ফলাফল কী হয়। এত বছর যে ভয় আর আতঙ্কের রাজনীতি বাংলা দেখেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে মানুষ সেই ভয়কে জয় করেছে। সকাল ৫টা থেকে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে শুধু একটাই উদ্দেশ্যে, বাংলার মাটিতে পদ্ম ফোটাতে। বিজেপি কর্মীরাও সাধারণ মানুষের চোখে জয়ের বিশ্বাস দেখতে পাচ্ছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সবুজ আবির এখন ম্লান হতে শুরু করেছে, বদলে চারদিকে শুধু গেরুয়া রঙের জয়জয়কার। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, প্রথম দফা তো কেবল ট্রেলার ছিল, আসল সিনেমা এখনও বাকি! আগামী ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। সেখানেও যদি এই জোয়ার বজায় থাকে, তবে বিজেপিকে রোখার সাধ্য আর কারোর নেই। এবারের ভোটে আর কোনো আপস নয়, শুধু উন্নয়ন আর সুশাসনের পথে এগিয়ে চলা।