বাংলায় পরিবর্তনের জয়গান! তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সাথে সাথেই বদলে গিয়েছে কলকাতার চেনা ছবি। বিশেষ করে হরিশ মুখার্জি রোড, যেখানে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এতদিন মাছি গলার উপায় ছিল না, সেখানে আজ বইছে মুক্তির হাওয়া। কড়া পাহারা নেই, নেই সেই পুলিশের রক্তচক্ষু। গার্ডরেল সরেছে, আর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে গিয়েছে চলাচলের পথ। দীর্ঘদিনের ‘বন্দিদশা’ কাটিয়ে আজ কী বলছেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা? কেন তাঁরা আজ বিজেপির এই নতুন জমানায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন?
এতদিন যে রাস্তায় অলিখিত কার্ফিউ ছিল, আজ সেখানে অবাধ যাতায়াত। অভিষেকের এক প্রবীণ প্রতিবেশী, যাঁর বয়স ৭৯ বছর, তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানালেন— “এটাই আমার জন্মভূমি, অথচ এখানেই আমি অসহায় ছিলাম।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ি নিয়ে বেরোনোর সময় পুলিশ হাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে থামিয়ে দিত। এমনকি জরুরি কাজ বা অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও রেহাই মিলত না। ভিআইপি-র নিরাপত্তায় নাকতলা, পর্ণশ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটের বাস চলাচল পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন এক বাসিন্দা। ১০০-র বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করে এলাকাটিকে যেন এক দুর্ভেদ্য কেল্লা বানিয়ে রাখা হয়েছিল।
সাধারণ মানুষ যে সেখানে কেবল নজরদারিতে ছিলেন না, ছিলেন একপ্রকার বন্দি।লালবাজারের সিদ্ধান্তে আজ হরিশ মুখার্জি রোডের সেই পুলিশি বাড়াবাড়ি বন্ধ। প্রতিবেশীরা আজ বুক ঠুকে বলতে পারছেন— “স্বস্তি পেলাম।” বিজেপির এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের জয়। যে দম্ভ আর দাপটে সাধারণ মানুষের পথ আটকে দেওয়া হতো, বিজেপির সরকার আসার আগেই সেই দম্ভ ধুলোয় মিশে গিয়েছে। বিজেপি মানেই যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান, সেখানে কোনো বিশেষ নেতার জন্য আমজনতাকে আর পথে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। সিন্ডিকেট আর তোষণের রাজনীতি সরে গিয়ে এবার আসছে সাধারণের সরকার। মানুষের যাতায়াতের স্বাধীনতা ফিরে আসাটাই প্রমাণ করে যে, সোনার বাংলার পথে যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে। হরিশ মুখার্জি রোডের এই ছবিই বলে দিচ্ছে, বাংলার মানুষ কেন পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নেতার নিরাপত্তা নয়, মানুষের অধিকারই এবার প্রাধান্য পাবে। এই মুক্তি নিয়ে আপনার মতামত কী? আপনিও কি মনে করেন ভিআইপি কালচারের অবসান হওয়া উচিত ছিল? কমেন্টে জানান।
