মুর্শিদাবাদে স্কুল পড়ুয়াদের গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক ও ভয়ংকর দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে চরম রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে তিনি মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ ও কড়া পোস্টের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, কেন্দ্রের বহুল প্রচারিত ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ আসলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ‘ডবল ইঞ্জিন বিপর্যয়’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
নিহত স্কুল পড়ুয়াদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অভিষেক তাঁর পোস্টে কেন্দ্রের জবাবদিহি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে স্কুল ছাত্র বোঝাই গাড়ির ধাক্কা লাগে এবং এভাবে নিরীহ প্রাণ চলে যায়, তখন জবাবদিহি চাওয়াটা কি স্রেফ ভুলে যাওয়া কোনও ভাল গুণ হয়েই থেকে যাবে? এই বারবার ঘটে চলা ট্র্যাজেডির উত্তর কে দেবে? নাকি বিজেপি সরকার তাঁদের দায়িত্ববোধ সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছে?”
রেল ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট সাংসদ বর্তমান রেল পরিকাঠামো এবং সুরক্ষাবিধিকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে দেগে দিয়েছেন। তিনি আরও জানতে চান, এই বিপর্যয় কি রেলের পদ্ধতিগত চরম গাফিলতির ফল? নাকি সিগন্যালিং ব্যবস্থার কোনও বড়সড় গলদ লুকিয়ে রয়েছে এর পেছনে? তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের চরম আত্মতুষ্টির জেরে রেলযাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বারবার বলির পাঁঠা বানানোর একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে দেশে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে যে স্তরেই গাফিলতি থাকুক না কেন, দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ও কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার মানুষের এমন এক সরকার পাওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে যা তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা দেবে এবং জীবন রক্ষা করবে। কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিন স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা আর মেনে নেওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই রেল দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি কর্তব্যরত রেলের গেটম্যানকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, সে দুর্ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিল কি না তা নিশ্চিত করতে দ্রুত মেডিকেল টেস্ট করানোর কথাও জানিয়েছেন। তবে এই প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝেই কেন্দ্রের রেল মন্ত্রক ও মোদী সরকারের দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করে অভিষেকের এই কড়া বিবৃতি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে যে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
