বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টার’। মৃত্যু হয়েছে ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে প্রহ্লাদ দাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফেরার সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত। তারপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সেইসময় পাল্টা পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদ দাসের। গত জুলাই মাসেও ঠিক একইভাবে বন্দুক ছিনিয়ে গুলি করে পালানোর সময় এনকাউন্টার করা হয়েছিল বারুইপুরে ধর্ষণে অন্যতম অভিযুক্তের। তিন মাসের মাথায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল গাইঘাটাতেও। উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, এই ধরনের ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছিলেন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা। সেখানে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না তার। পরের দিন সকালে উদ্ধার হয় ছাত্রীর নিথর দেহ। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থলে। উদ্দেশ্য, ঘটনার পুনর্নির্মাণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের কাজ সেরে ফিরছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই সময় আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নেয় প্রহ্লাদ দাস বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে সে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রহ্লাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের বক্তব্য, আত্মরক্ষার স্বার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে গত জুলাই মাসে বারুইপুরেও ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। সেই ঘটনাতেও পুলিশের দাবি ছিল, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফেরার সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অভিযুক্তকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আর এবার প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে গাইঘাটায় ফের একই ধরনের ঘটনার কথা সামনে এল।
এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে। পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে। ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়। তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দুটো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে মানুষ এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”