শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, বর্তমানে সেই রায় ডিভিশন বেঞ্চ বহাল রাখে কিনা তা নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। আর সেই শুনানিতেই প্রাথমিক চাকরিহারা শিক্ষকদের সংখ্যা কমাতে নতুন পথের সন্ধান দিলেন স্বয়ং চাকরিপ্রার্থীরা। মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী বলেন, অ্যাপটিটিউড টেস্টে প্রতিটি প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীকে অতিরিক্ত ৫ নম্বর দেওয়া হলে অনেকের চাকরি বেঁচে যাবে।
যদিও আইনজীবীর এমন দাবি শুনে আদালতের প্রশ্ন, ‘এমনটা করলে বাকি প্রশিক্ষিতদের কি হবে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবী জানান, “প্রশিক্ষিত হওয়ায় তারা এমনিতেই ১৫ নম্বর বেশি পেয়েছেন, তাই তাদের কোনও অসুবিধা হবে না। বরং, প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের অনেকেরই চাকরি বেঁচে যাবে এমনটা করলে।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১২ই মে শিক্ষক নিয়োগের এই দুর্নীতির রায় দিয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী। তার নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও স্কুলে যেতে পারবেন ওই শিক্ষকরা এবং আগামী ৩ মাসের মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ-ও দিয়েছিলেন তিনি।
এরপর সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পর্ষদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায় এবং তৎকালীন বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত এই রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে জানায়, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মতো আবারও পর্ষদকে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এরপর হাইকোর্টের ওই দুই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য ও পর্ষদ। সেখানে চাকরিহারাদের একাংশ দাবি করেন যে, সিঙ্গল বেঞ্চ শুনানিতে সব পক্ষকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই সব পক্ষের বক্তব্য শোনেনি আদালত। এরপর ওই বছর-ই শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে সব পক্ষের বক্তব্য শুনতে নির্দেশ দেয় এবং সবশেষে মামলা যায় ডিভিশন বেঞ্চে। আর এবার ‘অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ ৩২ হাজার চাকরি কীভাবে বাঁচানো যায়, সে পথ নিজেরাই আদালতকে জানালেন চাকরিপ্রার্থীরা।